দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ জীবনের প্রবাহমানতা

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো [MCQ] (প্রশ্ন মান – 1)

১) জিন মূলত কোনটির অংশ?
ক) RNA
খ) DNA
গ) DNA ও RNA উভয়
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: খ) DNA

২) মানবদেহে অটোজোমের সংখ্যা হল —
ক) ৪০টি
খ) ৪২টি
গ) ৪৪টি
ঘ) ৪৫টি
উত্তর: গ) ৪৪টি

৩) মানবদেহের মাইটোসিস কোশবিভাজনে সদ্য সৃষ্ট অপত্য কোশের প্রতিটি ক্রোমোজোম কটি DNA অণু কুণ্ডলীকৃত হয়ে গঠিত হয় তা স্থির করো। [MP ’20]
ক) ৪৬
খ) ১
গ) ২৩
ঘ) অসংখ্য
উত্তর: খ) ১

৪) ক্রোমোজোমে অধিক ঘনসন্নিবদ্ধ পুঁতির মতো অংশগুলিকে বলে—
ক) ক্রোমোনিমা
খ) ক্রোমোমিয়ার
গ) ক্রোমাটিড
ঘ) সেন্ট্রোমিয়ার
উত্তর: খ) ক্রোমোমিয়ার

৫) সেন্ট্রোমিয়ার ক্রোমোজোমের শেষপ্রান্তে থাকলে তাকে বলে —
ক) মেটাসেন্ট্রিক
খ) টেলোসেন্ট্রিক
গ) অ্যাসেন্ট্রিক
ঘ) অ্যাক্রোসেন্ট্রিক
উত্তর: খ) টেলোসেন্ট্রিক

৬) স্যাটেলাইট থাকে ক্রোমোজোমের—
ক) মুখ্য খাঁজে
খ) গৌণ খাঁজে
গ) সেন্ট্রোমিয়ারে
ঘ) ক্রোমাটিডে
উত্তর: খ) গৌণ খাঁজে

৭) ক্রোমোজোমে আঞ্চলিক প্রোটিনে কোন্ আমাইনো অ্যাসিড থাকে?
ক) ভ্যালিন
খ) ট্রিপটোফ্যান
গ) লাইসিন
ঘ) লিউসিন
উত্তর: খ) ট্রিপটোফ্যান

৮) কোন্ কোশ বিভাজনকে সদৃশ বিভাজন বলে?
ক) মাইটোসিস
খ) অ্যামাইটোসিস
গ) মিয়োসিস
ঘ) সাইটোকাইনেসিস
উত্তর: ক) মাইটোসিস

৯) মাইটোটিক কোশ বিভাজনের কোন্ দশায় বেম গঠিত হয়?
ক) প্রফেজ
খ) মেটাফেজ
গ) অ্যানাফেজ
ঘ) টেলোফেজ
উত্তর: খ) মেটাফেজ

১০) কোন্ প্রকার জননে মাইটোসিস এবং মিয়োসিস দুই প্রকার কোশ বিভাজনই দেখা যায়?
ক) অযৌন জনন
খ) যৌন জনন
গ) অঙ্গজ জনন
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: খ) যৌন জনন

১১) নিম্নলিখিত কার ক্ষেত্রে খণ্ডীভবন দেখা যায়?
ক) আমিবা
খ) হাইড্রা
গ) স্পাইরোগাইরা
ঘ) প্ল্যানেরিয়া
উত্তর: গ) স্পাইরোগাইরা

১২) জীবদেহের কোনো কাটা অংশ থেকে অপত্য জীব সৃষ্টি হলে তাকে বলে —
ক) রেণু উৎপাদন
খ) পুনরুৎপাদন
গ) দ্বিবিভাজন
ঘ) খণ্ডীভবন
উত্তর: খ) পুনরুৎপাদন

১৩) তুমি মাইটোসিস কোশ বিভাজনের একটি দশায় সিস্টার ক্রোমাটিডদ্বয়কে আলাদা হতে দেখলে। দশাটি হল —
ক) প্রফেজ
খ) টেলোফেজ
গ) অ্যানাফেজ
ঘ) মেটাফেজ
উত্তর: গ) অ্যানাফেজ

১৪) ফুলের কোন্ অংশ পরাগযোগের জন্য কীটপতঙ্গদের আকর্ষণ করে?
ক) বৃতি
খ) পাপড়ি
গ) পুংস্তবক
ঘ) স্ত্রীস্তবক
উত্তর: খ) পাপড়ি

১৫) মানুষের বৃদ্ধির ১২-২০ বছর বয়স পর্যন্ত দশাকে বলে —
ক) শৈশবকাল
খ) বয়ঃসন্ধিকাল
গ) পরিণত দশা
ঘ) বার্ধক্য
উত্তর: খ) বয়ঃসন্ধিকাল

১৬) নিম্নলিখিত কোনটি ইতর পরাগযোগের বৈশিষ্ট্য তা নির্বাচন করো।
ক) একই গাছের একটি ফুলের মধ্যেই ঘটে
খ) বাহকের প্রয়োজন হয় না
গ) নতুন বৈশিষ্ট্য সঞ্চার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে
ঘ) পরাগরেণুর অপচয় বেশি হয়
উত্তর: ঘ) পরাগরেণুর অপচয় বেশি হয়

১৭) একটি মাতৃকোশ থেকে চারটি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়—
ক) অ্যামাইটোসিসে
খ) মাইটোসিসে
গ) মিয়োসিসে
ঘ) অপুংজনিতে
উত্তর: গ) মিয়োসিসে

১৮) কোন্ দশায় ক্রোমোজোমগুলি বেমের বিষুব অঞ্চলে অবস্থান করে?
ক) প্রফেজ
খ) মেটাফেজ
গ) অ্যানাফেজ
ঘ) টেলোফেজ
উত্তর: খ) মেটাফেজ

১৯) মানুষের প্রতিটি দেহকোশে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে—
ক) দুটি
খ) চারটি
গ) ৪৬টি
ঘ) ২৩ জোড়া
উত্তর: ক) দুটি

২০) কোন্ দশায় ক্রোমোজোমগুলি বেমের দুই বিপরীত মেরুর দিকে ধাবমান হয়?
ক) প্রফেজ
খ) মেটাফেজ
গ) অ্যানাফেজ
ঘ) টেলোফেজ
উত্তর: গ) অ্যানাফেজ

২১) মানুষের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিতগুলির মধ্যে কোন্‌টি একজন স্বাভাবিক পুরুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
ক) 44A + XX
খ) 44A + XY
গ) 44A + XXY
ঘ) 44A + XYY
উত্তর: খ) 44A + XY

২২) অযৌন জনন সম্পন্নকারী একটি প্রাণী হল—
ক) ব্যাঙ
খ) পাখি
গ) অ্যামিবা
ঘ) কেঁচো
উত্তর: গ) অ্যামিবা

২৩) স্ত্রীলোকের লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম কোনটি?
ক) XY
খ) XX
গ) YY
ঘ) X0
উত্তর: খ) XX

২৪) মিয়োসিসের তাৎপর্য সংক্রান্ত নীচের কোন্ বক্তব্যটি সঠিক তা সঠিকভাবে নিরূপণ করো।
ক) দেহের সার্বিক বৃদ্ধি ও পরিস্ফুটন ঘটায়
খ) জীবের জনন-অঙ্গোর ও ভ্রূণের বৃদ্ধি ঘটায়
গ) বংশগত প্রকরণবাহী হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপাদন করে
ঘ) কোনো কোনো প্রাণীর দেহে কোনো অঙ্গহানি ঘটলে সেটি পুনরুৎপাদন করে
উত্তর: গ) বংশগত প্রকরণবাহী হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপাদন করে

২৫) দুটি গ্যামেটের মিলনকে বলে—
ক) সংশ্লেষ
খ) নিষেক
গ) অপুংজনি
ঘ) অযৌন জনন
উত্তর: খ) নিষেক

২৬) নীচের কোনটি DNA-র গঠনগত উপাদান নয়?
ক) ডি-অক্সি রাইবোজ শর্করা
খ) ইউরাসিল ফারক
গ) থাইমিন ফারক
ঘ) ফসফোরিক অ্যাসিড
উত্তর: খ) ইউরাসিল ফারক

২৭) নীচের কোন জোড়টি সঠিক?
ক) কোরকোদ্গম—ইস্ট
খ) খণ্ডীভবন—কেঁচো
গ) রেণু উৎপাদন—আমিবা
ঘ) পুনরুৎপাদন—ড্রায়োপটেরিস
উত্তর: ক) কোরকোদ্গম—ইস্ট

২৮) ইন্টারফেজ দশার উপদশাগুলির পর্যায়ক্রম কোনটি?
ক) G₁ → S → G₂
খ) G₁ → G₂ → S
গ) S → G₁ → G₂
ঘ) G₂ → S → G₁
উত্তর: ক) G₁ → S → G₂

২৯) মাইটোসিস কোশবিভাজনের দীর্ঘস্থায়ী দশা কোনটি?
ক) মেটাফেজ
খ) প্রফেজ
গ) অ্যানাফেজ
ঘ) টেলোফেজ
উত্তর: খ) প্রফেজ

৩০) উদ্ভিদের ক্ষেত্রে অযৌন জননের একক হল —
ক) শুক্রাণু
খ) রেণু
গ) গ্যামেট
ঘ) কোশ
উত্তর: খ) রেণু

৩১) দীর্ঘ সুপ্তদশা আছে এমন বীজযুক্ত উদ্ভিদের কম সময়ে বংশবিস্তার করতে নীচের কোন্ পদ্ধতির সাহায্য নেবে?
ক) যৌন জনন
খ) খণ্ডীভবন
গ) পুনরুৎপাদন
ঘ) মাইক্রোপ্রোপাগেশন
উত্তর: ঘ) মাইক্রোপ্রোপাগেশন

৩২) ফুলের যে অংশটি বীজে রূপান্তরিত হয়, তা হল —
ক) ডিম্বাশয়
খ) ডিম্বক
গ) বৃতি
ঘ) পাপড়ি
উত্তর: খ) ডিম্বক

৩৩) জীবের ডিপ্লয়েড ও হ্যাপ্লয়েড জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে বলে —
ক) কোশ বিভাজন
খ) রোটেশন
গ) জনুক্রম
ঘ) সারকুলেশন
উত্তর: গ) জনুক্রম

৩৪) জনন অঙ্গ ও জনন গ্রন্থি-র পরিপূর্ণতা ঘটে —
ক) শৈশব দশায়
খ) বয়ঃসন্ধি দশায়
গ) বার্ধক্য দশায়
ঘ) সদ্যোজাত দশায়
উত্তর: খ) বয়ঃসন্ধি দশায়

৩৫) ইতর পরাগযোগ সম্পর্কিত নীচের কোন্ বক্তব্যটি সঠিক নয় তা শনাক্ত করো —
ক) বাহকের প্রয়োজন হয়
খ) বংশধারায় নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব হয়
গ) প্রজাতির বিশুদ্ধতা বজায় থাকে
ঘ) বীজের অঙ্কুরণ হার বেশি হয়
উত্তর: গ) প্রজাতির বিশুদ্ধতা বজায় থাকে

৩৬) অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজনের সঠিক বৈশিষ্ট্যটি শনাক্ত করো —
ক) যৌন জননকারী জীবের জনন মাতৃকোশে ঘটে
খ) এটিকে পরোক্ষ বিভাজন বলা হয়
গ) ক্রোমোজোম ও বেমতন্তু গঠিত হয়
ঘ) ক্রোমোজোম ও বেমতন্তু গঠিত হয় না
উত্তর: ঘ) ক্রোমোজোম ও বেমতন্তু গঠিত হয় না

৩৭) যৌন জনন সম্পর্কিত প্রদত্ত কোন্ বক্তব্যটি সঠিক?
ক) যৌন জননে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপাদন অপরিহার্য
খ) যৌন জনন কেবলমাত্র মাইটোসিস নির্ভর
গ) যৌন জননে একটিমাত্র জনিতৃ জীব থেকেই অপত্য জীব সৃষ্টি হতে পারে
ঘ) যৌন জননের ফলে উৎপন্ন অপত্য জিনগতভাবে হুবহু জনিতৃ জীবের মতো হয়
উত্তর: ক) যৌন জননে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপাদন অপরিহার্য

একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাও

১. মানুষের অ্যালোজোমগুলির নাম লেখো।
উত্তর: XX এবং XY (লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম)

২. কোশচক্রের চেকপয়েন্ট বলতে কী বোঝ?
উত্তর: কোশচক্রের যে নির্দিষ্ট পর্যায়ে কোশ পরবর্তী দশায় প্রবেশের পূর্বে নিজের DNA বা গঠনগত ত্রুটি পরীক্ষা করে নেয়, তাকে চেকপয়েন্ট বলে।

৩. এক্সপ্ল্যান্ট বলতে কী বোঝ?
উত্তর: কলা কর্ষণের জন্য উদ্ভিদ থেকে সংগৃহীত জীবন্ত কলা বা কোশের অংশকে এক্সপ্ল্যান্ট বলে।

৪. কোশচক্রে চেকপয়েন্টের কাজ বিঘ্নিত হলে কী ঘটবে?
উত্তর: কোশচক্র অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে থাকবে এবং ত্রুটিপূর্ণ কোশ বিভাজিত হয়ে ক্যানসার সৃষ্টি হতে পারে।

৫. ইউক্রোমাটিনের সঙ্গে জিনের সম্পর্ক কী?
উত্তর: ইউক্রোমাটিন হল ক্রোমাটিনের হালকা রঞ্জিত, শিথিলভাবে কুণ্ডলীকৃত অংশ যেখানে জিনগুলি সক্রিয় থাকে অর্থাৎ প্রতিলিপন ঘটে।

৬. সিনসিটিয়াম সৃষ্টির কারণ কী?
উত্তর: ক্যারিওকাইনেসিস (নিউক্লিয়াস বিভাজন) ঘটলেও সাইটোকাইনেসিস (কোশপ্রাচীর গঠন) না ঘটলে বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত একটি কোশ সৃষ্টি হয়, একে সিনসিটিয়াম বলে।

৭. ক্রোমোজোমের কোন্ অংশ বেমতন্তুতে আবদ্ধ হয়?
উত্তর: সেন্ট্রোমিয়ার

৮. সপুষ্পক উদ্ভিদে মিয়োসিস কোশ বিভাজন কোথায় ঘটে?
উত্তর: পরাগধানী ও ডিম্বকের গর্ভাশয়ে (পরাগরেণু মাতৃকোশ ও ভ্রূণথলি মাতৃকোশে)

৯. RNA-এর পুরো নাম কী?
উত্তর: Ribonucleic Acid (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)

১০. প্রাণীকোশে বেম সৃষ্টিতে কোশীয় কোন্ অঙ্গাণু সাহায্য করে?
উত্তর: সেন্ট্রিওল

১১. জননকোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা ১১ হলে জনন মাতৃকোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা নির্ণয় করো।
উত্তর: ২২ (১১ × ২ = ২২)

১২. মানুষের দেহকোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা কত?
উত্তর: ৪৬টি (২৩ জোড়া)

১৩. কোন্ জাতীয় কোশ বিভাজনে কোশপাত গঠিত হয়?
উত্তর: উদ্ভিদ কোশ বিভাজনে (মাইটোসিস/মিয়োসিসের টেলোফেজ দশায়)

১৪. যৌন জননের সাপেক্ষে ক্রসিং ওভার-এর গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: ক্রসিং ওভারের ফলে ক্রোমোজোমে জিনের নতুন সমাবেশ ঘটে, ফলে জিনগত প্রকরণ সৃষ্টি হয় যা প্রকরণসমৃদ্ধ অপত্য জীব সৃষ্টিতে সাহায্য করে।

১৫. উদ্ভিদের ক্ষেত্রে অযৌন জননের একক কী?
উত্তর: রেণু (স্পোর)

১৬. রেণু উৎপাদনকারী একটি জীবের নাম লেখো।
উত্তর: মিউকর / ফার্ন (Dryopteris)

১৭. যৌন চেতনার উন্মেষ ঘটে কোন্ বৃদ্ধি দশায়?
উত্তর: বয়ঃসন্ধিকালে (Adolescence)

১৮. S দশায় কী সংশ্লেষণ ঘটে?
উত্তর: DNA সংশ্লেষণ (DNA প্রতিলিপন)

১৯. জিন কোথায় থাকে?
উত্তর: ক্রোমোজোমে (DNA-তে)

২০. কোথায় RNA জিনরূপে কাজ করে?
উত্তর: কোনো কোনো ভাইরাসে (যেমন—রেট্রোভাইরাস, TMV)

২১. পুরুষের সেক্স ক্রোমোজোম কীভাবে প্রকাশ করা হয়?
উত্তর: XY

২২. ক্রোমোনিমার পুঁতির দানার মতো অংশগুলিকে কী বলে?
উত্তর: ক্রোমোমিয়ার

২৩. মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ার কোথায় থাকে?
উত্তর: ক্রোমোজোমের মাঝখানে

২৪. সাইটোসিটিয়ামে ক্রোমোজোমকে কী বলে?
উত্তর: পলিটিন ক্রোমোজোম

২৫. DNA-র নাইট্রোজেন বেস দুটি কী?
উত্তর: পিউরিন ও পিরিমিডিন

২৬. ভ্রূণের পরিস্ফুটনকালে কী ধরনের কোশ বিভাজন দেখা যায়?
উত্তর: মাইটোসিস কোশ বিভাজন

২৭. একটি মাতৃকোশ থেকে চারটি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয় কোন্ কোশ বিভাজনে?
উত্তর: মিয়োসিস কোশ বিভাজনে

২৮. ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিনদ্বয় পরস্পর কোথায় সংলগ্ন থাকে?
উত্তর: সেন্ট্রোমিয়ারে

২৯. কোশ বিভাজনের কোন্ দশায় নিউক্লিওলাসের বিলুপ্তি ঘটে?
উত্তর: প্রোফেজ দশায়

৩০. কোন্ অঙ্গাণু উদ্ভিদ কোশের কোশ বিভাজনকালে বেম গঠন করে?
উত্তর: উদ্ভিদ কোশে সেন্ট্রিওল থাকে না; পোলার ক্যাপ (মেরু অঞ্চলের সাইটোপ্লাজম) বেম গঠনে সাহায্য করে

৩১. যৌন জননের একক কী?
উত্তর: গ্যামেট

৩২. কোন্ প্রাণীর বহুবিভাজন পদ্ধতিতে জনন সম্পন্ন হয়?
উত্তর: প্লাজমোডিয়াম (ম্যালেরিয়ার জীবাণু)

৩৩. কোন্ প্রাণীর পুনরুৎপাদন ঘটে?
উত্তর: প্ল্যানেরিয়া / হাইড্রা

৩৪. কোরকের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে কোন্ ছত্রাক?
উত্তর: ইস্ট (Yeast)

৩৫. খর্ব ধাবকের সাহায্যে অজাত (কন্দরুপান্তর) জনন হয় কোন্ উদ্ভিদের?
উত্তর: আলু

৩৬. জনুক্রম দেখা যায় এমন একটি উদ্ভিদের উদাহরণ দাও।
উত্তর: ফার্ন (Dryopteris)

৩৭. কর্ষণী দ্রব্যে কী কী হরমোন দেওয়া হয়?
উত্তর: অক্সিন ও সাইটোকাইনিন

৩৮. এমব্রয়েড কী?
উত্তর: কলাকর্ষণ পদ্ধতিতে সৃষ্ট ভ্রূণের মতো গঠনকে এমব্রয়েড বলে

৩৯. কোন্ প্রাণীতে অঙ্গজ ও অযৌন জনন দেখা যায়?
উত্তর: হাইড্রা

শূন্যস্থান পূরণ করো

১. ___________ কোশ বিভাজনে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখে।
উত্তর: মিয়োসিস

২. মানুষের মধ্যে যদি মিয়োসিসের পরিবর্তে মাইটোসিস দ্বারা গ্যামেট উৎপন্ন হত, তবে অপত্য সন্তানের একটি দেহকোশে অটোজোম সংখ্যা হতো ___________।
উত্তর: ৪৪টি

৩. ___________ অণুর ঘন কুণ্ডলীকৃত গঠনই হল ক্রোমোজোম।
উত্তর: DNA

৪. জীবজগতে ভারসাম্য রক্ষা করায় জিনের গুরুত্ব ___________।
উত্তর: অনেক

৫. মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ভ্রূণের পরিস্ফুটন ও বৃদ্ধির সময় ___________ কোশ বিভাজন ঘটে।
উত্তর: মাইটোসিস

Biological Sciences

৬. আডেনিন একটি ___________ জাতীয় নাইট্রোজেনযুক্ত ক্ষারক।
উত্তর: পিউরিন

৭. কনজুগেশন পদ্ধতিতে উৎপাদিত প্রথম কোশটিকে ___________ বলে।
উত্তর: জাইগোস্পোর

৮. নিউক্লিওটাইড হলো পাঁচ কার্বনযুক্ত শর্করা, N₂ যুক্ত ক্ষারক ও ___________-এর সমন্বিত গঠন।
উত্তর: ফসফরিক আসিড

৯. ইন্টারফেজ দশায় সর্বোচ্চ ঘনীভূত অবস্থায় থাকার কারণে গাঢ় বর্ণে রঞ্জিত হয় ___________।
উত্তর: হেটেরোক্রোমাটিন

১০. ___________ প্রাণীর মাইটোসিসের টেলোফেজে নিউক্লিওলাস অবলুপ্ত হয়।
উত্তর: মানুষ

১১. ___________ দশায় ক্রোমোজোম কোশের বিষুব অঞ্চলে বিন্যস্ত থাকে।
উত্তর: মেটাফেজ

১২. একই জিনের বিভিন্ন রূপকে ___________ বলে।
উত্তর: অ্যালিল

সত্য (T) বা মিথ্যা (F) নির্ধারণ করো

১. মাইটোসিস কোশবিভাজনে ক্রসিংওভার ঘটে।
উত্তর: মিথ্যা

২. হাইড্রার কোরকোদ্গমের সাহায্যে জনন সম্পন্ন হয়।
উত্তর: সত্য

৩. গ্রাফটিং একধরনের অযৌন জনন।
উত্তর: সত্য

৪. ডিম্বাণু শুধুমাত্র মাইটোসিসের ফলে উৎপন্ন হয়।
উত্তর: মিথ্যা

৫. DNA-তে অ্যাডেনিন হাইড্রোজেন বন্ধনী দিয়ে গুয়ানিনের সাথে যুক্ত থাকে।
উত্তর: মিথ্যা

৬. সপুষ্পক উদ্ভিদের স্ত্রীস্তবক রোমশ ও আঠালো গর্ভমুণ্ডের সাহায্যে পরাগরেণু সংগ্রহ করে।
উত্তর: সত্য

৭. কোশচক্রের ইন্টারফেজের G₂ উপদশায় DNA সংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উৎসেচক তৈরি হয়।
উত্তর: মিথ্যা

৮. মিয়োসিস কোশবিভাজনের ফলে উৎপন্ন গ্যামেট দ্বারা যৌন জনন সম্ভব হয়।
উত্তর: সত্য

Biological Sciences

৯. হ্যাপ্লয়েড প্রকৃতির হওয়ার জন্য জনন কোশে কোনো সমসংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে না।
উত্তর: সত্য

১০. মাইটোসিস কোশ বিভাজনে ক্রসিং ওভার ঘটে।
উত্তর: মিথ্যা

১১. প্রাণীকোশের কোশ বিভাজনের সময় অ্যাস্ট্রাল রশ্মি থেকে বেমতন্তু গঠিত হয়।
উত্তর: সত্য

১২. DNA দ্বিত্বকরণ বা রেপ্লিকেশন মাইটোসিসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর: সত্য

১৩. প্ল্যানেরিয়া খণ্ডীভবন পদ্ধতিতে জনন সম্পন্ন করে।
উত্তর: সত্য

১৪. বিকাশ, বৃদ্ধি ছাড়া ঘটা সম্ভব নয়।
উত্তর: মিথ্যা

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন — প্রশ্নমান-২

১. ফুলের যৌন জননের স্তবক কোনগুলি?
উত্তর: ফুলের যৌন জননের সঙ্গে যুক্ত স্তবক দুটি হলো — পুংস্তবক (Androecium) ও স্ত্রীস্তবক (Gynoecium)।

২. যৌন জনন বলতে কী বোঝ?
উত্তর: যে জনন পদ্ধতিতে দুটি ভিন্ন লিঙ্গের (পুং ও স্ত্রী) জনন কোশ বা গ্যামেট মিলিত হয়ে নিষেকের মাধ্যমে জাইগোট গঠন করে এবং সেই জাইগোট থেকে নতুন অপত্য জীবের সৃষ্টি হয়, তাকে যৌন জনন বলে।

৩. মাইটোসিসের কোন দশা দুটি বিপরীতমুখী হয়?
উত্তর: মাইটোসিসের প্রোফেজ ও টেলোফেজ দশা দুটি পরস্পর বিপরীতমুখী। প্রোফেজে ক্রোমাটিন জালিকা কুণ্ডলীকৃত হয়ে ক্রোমোজোম গঠন করে, আর টেলোফেজে ক্রোমোজোম কুণ্ডলীমুক্ত হয়ে পুনরায় ক্রোমাটিন জালিকায় পরিণত হয়।

৪. ক্রোমোজোমের গঠন কখনও একটি ক্রোমাটিডযুক্ত আবার কখনও দুটি ক্রোমাটিডবিশিষ্ট হয় কেন?
উত্তর: কোশচক্রের S-দশায় DNA প্রতিলিপন (replication) ঘটার ফলে প্রতিটি ক্রোমোজোম দুটি অভিন্ন ক্রোমাটিডযুক্ত হয়। অ্যানাফেজে সেন্ট্রোমিয়ার বিভাজিত হয়ে ক্রোমাটিড দুটি পৃথক হয়ে যাওয়ায় প্রতিটি অপত্য ক্রোমোজোম একটি মাত্র ক্রোমাটিডযুক্ত হয়।

৫. ক্রোমোজোম ও ক্রোমাটিন জালিকার সম্পর্ক কী?
উত্তর: ক্রোমোজোম ও ক্রোমাটিন জালিকা একই পদার্থ DNA ও প্রোটিনের সংগঠিত রূপ। কোশ বিভাজনকালে ক্রোমাটিন জালিকা কুণ্ডলীকৃত ও ঘনীভূত হয়ে ক্রোমোজোমে পরিণত হয়, আবার বিভাজন শেষে ক্রোমোজোম শিথিল হয়ে ক্রোমাটিন জালিকায় পরিণত হয়।

৬. মহিলাদের X-ক্রোমোজোমে কোন প্রকারের ক্রোমাটিন থাকে?
উত্তর: নিষ্ক্রিয় X-ক্রোমোজোমটি (বার্‌বডি) সংকুচিত ও ঘনীভূত অবস্থায় থাকে বলে তাতে হেটারোক্রোমাটিন থাকে।

৭. মাইক্রোপ্রোপাগেশন বলতে কী বোঝ?
উত্তর: উদ্ভিদের কোশ, কলা বা অঙ্গের ক্ষুদ্র অংশ (এক্সপ্ল্যান্ট) কৃত্রিম মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে (in vitro) চাষ করে অল্প সময়ে বহুসংখ্যক অপত্য উদ্ভিদ উৎপাদনের পদ্ধতিকে মাইক্রোপ্রোপাগেশন বলে।

৮. টেলোমিয়ার ও সেন্ট্রোমিয়ারে কোন ক্রোমাটিন থাকে?
উত্তর: এই অংশগুলিতে হেটারোক্রোমাটিন থাকে, কারণ এখানকার DNA ঘনসন্নিবদ্ধ ও নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে।

৯. ‘প্রকরণের আঁতুড়ঘর হল যৌন জনন’ — ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: যৌন জননে মিয়োসিসের সময় ক্রসিং ওভার এবং দুই ভিন্ন জনিতৃর গ্যামেট মিলনের ফলে অপত্যে নতুন জিনগত সমন্বয় সৃষ্টি হয়, যা প্রকরণ ঘটায়। তাই যৌন জননকে প্রকরণের আঁতুড়ঘর বলা হয়।

১০. মিয়োসিস II-এর সঙ্গে মাইটোসিসের মিল ও অমিল লেখো।
উত্তর: মিল: উভয় ক্ষেত্রেই সেন্ট্রোমিয়ার বিভাজিত হয়ে ক্রোমাটিড পৃথক হয় এবং দশাগুলি (প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ) একই রকম।
অমিল: মিয়োসিস II-এ ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্যাপ্লয়েড (n) থাকে, কিন্তু মাইটোসিসে ডিপ্লয়েড (2n) অবস্থায় বিভাজন ঘটে।

১১. জনুক্রমে মাইটোসিস ও মিয়োসিস কীভাবে সহায়তা করে?
উত্তর: মাইটোসিস স্পোরোফাইট বা গ্যামিটোফাইট দশায় কোশ সংখ্যা বৃদ্ধি করে বৃদ্ধি ঘটায়, আর মিয়োসিস ডিপ্লয়েড স্পোরোফাইট থেকে হ্যাপ্লয়েড স্পোর সৃষ্টি করে গ্যামিটোফাইট দশার সূচনা করে। এভাবে দুই প্রকার বিভাজন জনুক্রম বজায় রাখে।

১২. উদ্ভিদকোশ ও প্রাণীকোশের মাইটোসিসের পার্থক্য (বেমতন্তু ও সাইটোকাইনেসিস)।
উত্তর: উদ্ভিদকোশে সেন্ট্রিওল অনুপস্থিত থাকায় বেমতন্তু অ্যাস্টার-বিহীন, আর সাইটোকাইনেসিস কোশপ্লেট গঠনের মাধ্যমে ঘটে। প্রাণীকোশে সেন্ট্রিওল উপস্থিত থাকায় বেমতন্তু অ্যাস্টারযুক্ত, আর সাইটোকাইনেসিস কোশপর্দার খাঁজকাটার (furrowing) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

১৩. ঈস্টের কোরকোদ্‌গম প্রক্রিয়া বর্ণনা করো।
উত্তর: অনুকূল পরিবেশে ঈস্ট কোশের গায়ে একটি স্ফীতি বা কুঁড়ি (bud) সৃষ্টি হয়। মাতৃকোশের নিউক্লিয়াস মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে বিভাজিত হয়ে একটি নিউক্লিয়াস কুঁড়িতে প্রবেশ করে। কুঁড়িটি ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে পরিণত আকার ধারণ করলে মাতৃকোশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বতন্ত্র অপত্য ঈস্ট কোশে পরিণত হয়।

১৪. অ্যামাইটোসিস একককোশী ইউক্যারিওটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন? (সংশোধিত)
উত্তর: অ্যামাইটোসিস একটি দ্রুত ও সরল কোশ বিভাজন প্রক্রিয়া, যেখানে বেমতন্তু গঠন ছাড়াই সরাসরি নিউক্লিয়াস ও কোশদেহ বিভাজিত হয়ে অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়। একককোশী ইউক্যারিওট (যেমন অ্যামিবা, প্যারামিসিয়াম)-এর ক্ষেত্রে এই দ্রুত বিভাজন প্রক্রিয়া অল্প সময়ে বংশবৃদ্ধি ঘটাতে এবং প্রতিকূল পরিবেশেও দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধিতে সাহায্য করে বলে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

১৫. কোশ বিভাজনের পূর্বে ইন্টারফেজ কেন প্রয়োজন?
উত্তর: ইন্টারফেজ দশায় DNA প্রতিলিপন (S-দশা) ঘটে এবং কোশ বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, শক্তি (ATP) ও অন্যান্য উপাদান (G1 ও G2 দশায়) প্রস্তুত হয়। এই প্রস্তুতি ছাড়া সঠিকভাবে ক্রোমোজোম বিভাজন ও অপত্য কোশ গঠন সম্ভব নয়।

১৬. অস্থানিক পত্রজ মুকুল দ্বারা প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তার — উদাহরণসহ।
উত্তর: পাতার কিনারায় সৃষ্ট অস্থানিক মুকুল থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হতে পারে। যেমন পাথরকুচি (Bryophyllum) পাতার কিনারার খাঁজে অস্থানিক মুকুল সৃষ্টি হয়, যা মাটিতে পড়ে অনুকূল পরিবেশে শিকড় ও কাণ্ড উৎপন্ন করে নতুন উদ্ভিদে পরিণত হয়। এভাবে এটি প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৭. কোশচক্র নিয়ন্ত্রণ নষ্ট ও ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের সম্পর্ক।
উত্তর: কোশচক্রের চেকপয়েন্টগুলি (G1, G2, M) স্বাভাবিকভাবে অনিয়ন্ত্রিত কোশ বিভাজন রোধ করে। কোনো কারণে (জিন পরিব্যক্তি ইত্যাদি) এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হলে কোশ অনিয়ন্ত্রিতভাবে ও অবিরাম বিভাজিত হতে থাকে, যা ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বা ক্যানসার সৃষ্টি করে।

১৮. মিয়োসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস ও খণ্ড বিনিময়ের তাৎপর্য।
উত্তর: ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাসের ফলে (2n → n) নিষেকের পর অপত্যে পুনরায় ডিপ্লয়েড সংখ্যা বজায় থাকে, প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা স্থির থাকে। আর ক্রসিং ওভারের (খণ্ড বিনিময়) ফলে জিনের নতুন সমন্বয় ঘটে, যা প্রকরণ সৃষ্টি করে এবং প্রজাতির অভিযোজন ও বিবর্তনে সহায়তা করে।

১৯. মাইটোসিসের ক্যারিওকাইনেসিস দশা শনাক্তকরণ।
উত্তর: বর্ণিত বৈশিষ্ট্যগুলি (ক্রোমোজোমের বিষুবীয় সজ্জা, বেমতন্তু বিলুপ্তি, নিউক্লীয় পর্দা ও নিউক্লিওলাসের পুনরাবির্ভাব, অপত্য ক্রোমোজোমের বিপরীত মেরুতে গমন) থেকে বোঝা যায় এটি মেটাফেজ (বিষুবীয় সজ্জা), অ্যানাফেজ (মেরুতে গমন) এবং টেলোফেজ (বেমতন্তু বিলুপ্তি, নিউক্লীয় পর্দা পুনরাবির্ভাব) দশার সমন্বিত বৈশিষ্ট্য।

২০. বার্ধক্যে দৃষ্টিশক্তি ও অস্থি সংক্রান্ত পরিবর্তন।
উত্তর: দৃষ্টিশক্তি: চোখের লেন্সের স্থিতিস্থাপকতা কমে গিয়ে দূরদৃষ্টি বা ছানি (cataract) দেখা দেয়। অস্থি: অস্থিতে ক্যালশিয়ামের পরিমাণ কমে গিয়ে অস্থি ভঙ্গুর হয়ে পড়ে (অস্টিওপোরোসিস)।

২১. জীবের প্রকরণ ও অভিব্যক্তিতে মিয়োসিসের গুরুত্ব।
উত্তর: মিয়োসিসের সময় ক্রসিং ওভার ও ক্রোমোজোমের স্বাধীন সঞ্চরণের ফলে গ্যামেটে নতুন জিন সমন্বয় ঘটে, যা অপত্যে প্রকরণ সৃষ্টি করে। এই প্রকরণ প্রাকৃতিক নির্বাচনের ভিত্তি তৈরি করে এবং জীবের অভিব্যক্তি বা বিবর্তনে সহায়তা করে।

২২. একটি প্রাকৃতিক ও একটি কৃত্রিম অঙ্গজ বৃদ্ধির পদ্ধতি।
প্রাকৃতিক: রাইজোম দ্বারা বংশবিস্তার (যেমন আদা)। কৃত্রিম: কাটিং পদ্ধতি (যেমন গোলাপ)।

২৩. নিচের উদ্ভিদগুলির পরাগযোগের মাধ্যম লেখো (সংশোধিত শিরোনাম)
উত্তর: (ক) ধান — বায়ু (বায়ুপরাগী)। (খ) পতিতাধানি (Vallisneria) — জল (জলপরাগী)। (গ) শিমুল — পাখি (পক্ষীপরাগী)। (ঘ) বাগানবিলাস — পতঙ্গ (কীটপরাগী)।

২৪. মাইটোসিসের অ্যানাফেজ ও টেলোফেজের একটি করে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
উত্তর: অ্যানাফেজ: সেন্ট্রোমিয়ার বিভাজিত হয়ে অপত্য ক্রোমোজোম বিপরীত মেরুতে গমন করে। টেলোফেজ: প্রতিটি মেরুতে নিউক্লীয় পর্দা পুনরায় গঠিত হয়ে অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হয়।

২৫. ক্রোমোজোম কাকে বলে?
উত্তর: কোশ বিভাজনকালে ক্রোমাটিন জালিকা কুণ্ডলীকৃত ও ঘনীভূত হয়ে যে দণ্ডাকার, গাঢ় রঞ্জিত গঠন সৃষ্টি করে এবং যা বংশগতির ধারক ও বাহক, তাকে ক্রোমোজোম বলে।

২৬. জিনের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তর: (i) জিন হলো DNA-র একটি নির্দিষ্ট খণ্ড যা বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। (ii) জিন স্বপ্রতিলিপন (self-replication) ক্ষমতাসম্পন্ন এবং এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়।

২৭. অটোজোম কাকে বলে? মানব কোশে সংখ্যা কত?
উত্তর: যে ক্রোমোজোম দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য (লিঙ্গ নির্ধারণ ব্যতীত) নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে অটোজোম বলে। মানব দেহকোশে ৪৪টি (২২ জোড়া) অটোজোম থাকে।

২৮. সেক্স ক্রোমোজোম কাকে বলে? পুরুষ ও স্ত্রীদের প্রকাশ।
উত্তর: যে ক্রোমোজোম জীবের লিঙ্গ নির্ধারণ করে, তাকে সেক্স ক্রোমোজোম বলে। পুরুষদের সেক্স ক্রোমোজোম XY এবং স্ত্রীদের সেক্স ক্রোমোজোম XX দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

২৯. সেন্ট্রোমিয়ার কাকে বলে?
উত্তর: ক্রোমোজোমের যে সংকুচিত অঞ্চল দুটি ক্রোমাটিডকে পরস্পর যুক্ত রাখে এবং যেখানে বেমতন্তু (spindle fibre) সংযুক্ত হয়ে বিভাজনকালে ক্রোমোজোমকে সঞ্চালিত করে, তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে।

৩০. সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুসারে ক্রোমোজোমের প্রকারভেদ।
উত্তর: চার প্রকার— (i) মেটাসেন্ট্রিক (মধ্যবর্তী), (ii) সাবমেটাসেন্ট্রিক (মধ্যবর্তীর কাছাকাছি), (iii) অ্যাক্রোসেন্ট্রিক (প্রান্তের কাছে), (iv) টেলোসেন্ট্রিক (একেবারে প্রান্তে)।

৩১. ক্রোমোজোমে কী কী প্রোটিন থাকে?
উত্তর: ক্রোমোজোমে হিস্টোন ও নন-হিস্টোন— এই দুই প্রকার প্রোটিন থাকে।

৩২. ক্রোমোজোমে কী কী নিউক্লিক অ্যাসিড থাকে?
উত্তর: ক্রোমোজোমে DNA (Deoxyribonucleic acid) ও RNA (Ribonucleic acid)— এই দুই প্রকার নিউক্লিক অ্যাসিড থাকে।

৩৩. কার্যকরী (Non-coding/Functional) RNA কত প্রকারের হয়? (সংশোধিত পরিভাষা)
উত্তর: কার্যকরী RNA তিন প্রকার— (i) m-RNA (মেসেঞ্জার RNA), (ii) t-RNA (ট্রান্সফার RNA), (iii) r-RNA (রাইবোজোমাল RNA)।

৩৪. DNA ও RNA-র পার্থক্য (পিরিমিডিন ক্ষারক, 5-C শর্করা)।
উত্তর: পিরিমিডিন ক্ষারক: DNA-তে থাইমিন ও সাইটোসিন থাকে; RNA-তে ইউরাসিল ও সাইটোসিন থাকে।
৫-C শর্করা: DNA-তে ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা থাকে; RNA-তে রাইবোজ শর্করা থাকে।

৩৫. কোশ বিভাজনে সেন্ট্রোজোমের ভূমিকা।
উত্তর: সেন্ট্রোজোম থেকে সৃষ্ট বেমতন্তু ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অপত্য ক্রোমোজোমকে কোশের বিপরীত মেরুতে টেনে নিয়ে যায়, ফলে ক্রোমোজোম সুষমভাবে বিভাজিত হয়।

৩৬. অ্যামাইটোসিস কাকে বলে?
উত্তর: যে সরল প্রত্যক্ষ কোশ বিভাজন পদ্ধতিতে বেমতন্তু গঠন ছাড়াই নিউক্লিয়াস সরাসরি খাঁজকাটার মাধ্যমে দুই ভাগে বিভাজিত হয়ে অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে, তাকে অ্যামাইটোসিস বলে।

৩৭. মাইটোসিসের দুটি তাৎপর্য।
উত্তর: (i) মাইটোসিসের ফলে দেহের বৃদ্ধি ঘটে। (ii) ক্ষতিগ্রস্ত বা মৃত কোশের পুনরুৎপাদন (regeneration) ঘটে।

৩৮. কোশচক্র কাকে বলে?
উত্তর: একটি কোশ বিভাজনের পর সৃষ্ট অপত্য কোশ থেকে পরবর্তী বিভাজন পর্যন্ত যে ধারাবাহিক ঘটনাক্রম (ইন্টারফেজ ও কোশ বিভাজন দশা) সংঘটিত হয়, তাকে কোশচক্র বলে।

৩৯. মেটাফেজ দশার দুটি বৈশিষ্ট্য।
উত্তর: (i) ক্রোমোজোমগুলি কোশের বিষুব অঞ্চলে (মেটাফেজ প্লেটে) সজ্জিত হয়। (ii) বেমতন্তু সম্পূর্ণরূপে গঠিত হয় এবং সেন্ট্রোমিয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

৪০. বাইভ্যালেন্ট কাকে বলে?
উত্তর: মিয়োসিস প্রথম বিভাজনের প্রোফেজ দশায় সমসংস্থ (homologous) ক্রোমোজোম জোড়ায় জোড়ায় মিলিত হয়ে যে গঠন তৈরি করে, তাকে বাইভ্যালেন্ট বলে।

৪১. ইউক্রোমাটিন ও হেটারোক্রোমাটিন কাকে বলে?
উত্তর: যে ক্রোমাটিন হালকা কুণ্ডলীকৃত, হালকা রঞ্জিত ও জিনগতভাবে সক্রিয়, তাকে ইউক্রোমাটিন বলে। যে ক্রোমাটিন ঘন কুণ্ডলীকৃত, গাঢ় রঞ্জিত ও জিনগতভাবে নিষ্ক্রিয়, তাকে হেটারোক্রোমাটিন বলে।

৪২. মাইটোসিস ও মিয়োসিসের দুটি পার্থক্য।
উত্তর: (i) মাইটোসিসে একবার বিভাজনে ২টি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়, মিয়োসিসে দুবার বিভাজনে ৪টি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়। (ii) মাইটোসিসে অপত্য কোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের সমান (2n) থাকে, মিয়োসিসে অর্ধেক (n) হয়ে যায়।

৪৩. অযৌন ও যৌন জননের পার্থক্য (জনিতৃর সংখ্যা, অপত্য জনুর প্রকৃতি)।
উত্তর: জনিতৃ সংখ্যা: অযৌন জননে একটিমাত্র জনিতৃ প্রয়োজন হয়; যৌন জননে দুটি (পুং ও স্ত্রী) জনিতৃ প্রয়োজন হয়।
অপত্য জনুর প্রকৃতি: অযৌন জননে অপত্য জনু জনিতৃর সঙ্গে জিনগতভাবে অভিন্ন হয়; যৌন জননে অপত্য জনু উভয় জনিতৃর বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণে ভিন্নধর্মী (প্রকরণযুক্ত) হয়।

৪৪. জনুক্রম কাকে বলে?
উত্তর: কোনো কোনো জীবের জীবনচক্রে হ্যাপ্লয়েড গ্যামিটোফাইট জনু ও ডিপ্লয়েড স্পোরোফাইট জনু পর্যায়ক্রমে সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়াকে জনুক্রম বলে।

৪৫. নিষেক কাকে বলে?
উত্তর: পুং গ্যামেট (শুক্রাণু) ও স্ত্রী গ্যামেটের (ডিম্বাণু) মিলনের ফলে জাইগোট গঠিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিষেক বলে।

৪৬. মানুষের অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোমের পার্থক্য (প্রকৃতি, সংখ্যা)।
উত্তর: প্রকৃতি: অটোজোম দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে; সেক্স ক্রোমোজোম লিঙ্গ নির্ধারণ করে।
সংখ্যা: মানুষের দেহকোশে অটোজোমের সংখ্যা ৪৪টি (২২ জোড়া); সেক্স ক্রোমোজোমের সংখ্যা ২টি (১ জোড়া)।

৪৭. চারিত্রিক নীতি কী?
উত্তর: জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী একককে (জিন) চারিত্রিক নীতি বা ফ্যাক্টর (Mendel-প্রদত্ত ধারণা) বলা হয়, যা জনিতৃ থেকে অপত্যে সঞ্চারিত হয়।

৪৮. কোশচক্রে কটি চেকপয়েন্ট আছে ও কী কী?
উত্তর: কোশচক্রে প্রধানত তিনটি চেকপয়েন্ট আছে — (i) G1 চেকপয়েন্ট, (ii) G2 চেকপয়েন্ট, (iii) M (মেটাফেজ) চেকপয়েন্ট।

দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন — প্রশ্নমান – ৫

১। ক্রোমোজোম কী? ক্রোমোজোম কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: কোশের নিউক্লিয়াসের মধ্যে জালকের মতো এক ধরনের গঠন থাকে যারা একে অপরকে পেঁচিয়ে থাকে। এই ধরনের গঠন হল DNA (Deoxyribonucleic acid) । DNA হল একটি বৃহৎ জৈব অণু। নিউক্লিয়াসের মধ্যে DNA কুণ্ডলীকৃত অথবা আংশিক মুক্ত অবস্থায় থাকে। এই অবস্থায় একে নিউক্লিয় জালিকা বলে। কুণ্ডলীকৃত অবস্থায় DNA প্রোটিনকে দৃঢ়ভাবে পেঁচিয়ে থাকে। DNA-র এই কুণ্ডলীকৃত গঠনই হল ক্রোমোজোম। কোশবিভাজনের সময় নিউক্লিয়াস মধ্যস্থ নিউক্লিয় জালিকার ক্রোমাটিন সূত্রগুলি প্যাঁচ খুলে গিয়ে একে অপরের থেকে পৃথক হয়ে যায় ও ক্রোমাটিন সূত্রগুলি আরও বেশি কুণ্ডলীকৃত হয়ে পৃথক পৃথক ক্রোমোজোম গঠন করে। ক্রোমোজোমের প্রতিটি বাহুকে ক্রোমাটিড বলে। প্রতিটি ক্রোমাটিডের মধ্যে একটি করে দ্বিত্রী DNA অণু থাকে।

ক্রোমোজোম (Chromosome): কোশের নিউক্লিয়াসমধ্যস্থ নিউক্লিয় জালিকা থেকে উৎপন্ন নিউক্লিয় প্রোটিন দিয়ে গঠিত, স্বপ্রজননশীল যে সূত্রাকার অংশ জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যগুলি বহন করে এবং প্রজাতির পরিবর্তি, প্রকরণ ও বিবর্তনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে, তাকে ক্রোমোজোম বলে। ওয়ালডেয়ার প্রথম ক্রোমোজোম নামটি প্রবর্তন করেন।

২। মাইটোসিস কোথায় ঘটে? মাইটোসিসের প্রফেজ দশার বর্ণনা দাও।
উত্তর: মাইটোসিস কোশ বিভাজনের প্রধান স্থান হল উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ মাতৃকোশ। বিশেষ করে—(i) উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঞ্জো, যেমন — কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগে, বর্ধনশীল পাতায়, ভ্রূণমূল ও ভ্রূণমুকুলে; (ii) দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের গৌণ বৃদ্ধির সময় কাণ্ড ও মূলের বিশেষ ধরনের ভাজক কলায়; (iii) উচ্চতর প্রাণীদের ভ্রূণের পরিস্ফুটনকালে এবং দেহের বৃদ্ধির সূচনা থেকে বার্ধক্যের পূর্ব পর্যন্ত; (iv) নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ও প্রাণীদের বৃদ্ধির সময় এবং অঙ্গজ জনন ও অযৌন জননের সময়।

(1) প্রফেজ (Prophase; গ্রিক—pro = before, phases = appearance): এটি নিউক্লিয়াস বিভাজনের উত্তর: প্রথম ও দীর্ঘস্থায়ী দশা। এই দশার বৈশিষ্ট্যগুলি হল—(i) এই দশায় ক্রোমাটিন সূত্রগুলি জল বিয়োজন ঘটিয়ে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে। (ii) ক্রোমাটিন সূত্রগুলি কুণ্ডলীকৃত হয়ে ক্রমশ ছোটো ও মোটা হয় এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম সৃষ্টি করে। (iii) প্রতিটি ক্রোমোজোম সেন্ট্রোমিয়ার অঞ্চল ছাড়া লম্বালম্বিভাবে বিভাজিত হয়ে দুটি করে ক্রোমাটিড গঠন করে। ক্রোমাটিডদ্বয় পরস্পর সেন্ট্রোমিয়ার অঞ্চলে সংলগ্ন থাকে। (iv) প্রতিটি ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিডদ্বয় পরস্পরকে নিবিড়ভাবে পেঁচিয়ে অবস্থান করে। প্যাঁচানো অবস্থাকে প্লেক্টোনোমিক কুণ্ডলী (plectonomic coil) এবং প্যাঁচানো পদ্ধতিকে স্পাইরাইলেজেশন (spirilazation) বলে। (v) প্রফেজ দশা চলাকালীন নিউক্লিওলাসটি আকারে ক্রমশ ছোটো হতে থাকে এবং শেষের দিকে পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়। (vi) প্রফেজের শেষের দিকে নিউক্লিয় পর্দার বিলুপ্তি ঘটে।

প্রাণীদের ক্ষেত্রে সেন্ট্রোজোমের সেন্ট্রিওল দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি সেন্ট্রিওল গঠন করে এবং নিউক্লিয়াসের দুই বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে। নতুন সেন্ট্রিওলকে ঘিরে আস্ট্রাল রশ্মির (astral rays) আবির্ভাব ঘটে। উভয় প্রান্তের আস্ট্রাল রশ্মি পরস্পর জোড়া লেগে বেমতন্তু

৩। কোশচক্র কাকে বলে? কোশচক্রটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
উত্তর: কোশচক্র: কোশের বৃদ্ধি ও বিভাজনের বিভিন্ন দশার চক্রাবত আবর্তনকে কোশচক্র বলে।

কোশচক্রের পর্যায় (Phases of cell cycle): কোশচক্রের প্রধান দুটি পর্যায় হল—ইন্টারফেজ বা I-ফেজ (Interphase or I-phase) এবং মাইটোটিক ফেজ বা M-ফেজ (Mitotic phase or M-phase)

(1) ইন্টারফেজ (Interphase): এই পর্যায়ে কোশ বিভাজন ঘটে না। এই দীর্ঘস্থায়ী দশায় কোশ বিভাজনের প্রস্তুতি পর্ব চলে। ইন্টারফেজে তিনটি দশা দেখা যায়। যথা—(i) গ্যাপ 1 বা G₁ দশার কাজ: সাইটোপ্লাজমের সংশ্লেষ ঘটে বলে কোশের আকার-আয়তন বৃদ্ধি পায়, বিভিন্ন কোশীয় অঙ্গাণু (যেমন—রাইবোজোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট ইত্যাদি) সংশ্লেষিত হয়; DNA প্রতিলিপিকরণে সাহায্যকারী DNA পলিমারেজ এবং অন্যান্য উৎসেচকসমূহ সংশ্লেষিত হয়; ননহিস্টোন প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়; নিউক্লিওটাইড ও বিভিন্ন প্রকারের RNA সমূহের উৎপাদন ঘটে; অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ATP অণুর সংশ্লেষ ঘটে। (ii) S বা সংশ্লেষ দশার কাজ: DNA প্রতিলিপিকরণ ঘটে এবং DNA-র পরিমাণ দ্বিগুণ হয় (2C থেকে 4C), হিস্টোন প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়, সেন্ট্রিওলের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়। (iii) গ্যাপ 2 বা G₂ দশার কাজ: মাইটোসিস কোশ বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ফ্যাক্টরসমূহ সংশ্লেষিত হয়, বিভিন্ন প্রকারের RNA সমূহের উৎপাদন ঘটে, ATP অণুর সংশ্লেষ ঘটে, প্রোটিন উৎপাদিত হয়। G₀ দশা হল যেখানে কোশচক্রটি থেমে যায়। এটি G₁ দশায় অবস্থান করে।

কোশচক্রের বিভিন্ন দশায় কোশে DNA সংখ্যার তারতম্য: M দশার সমাপ্তি G₁ দশা: 2C① পরিমাণ DNA (প্রতিটি ক্রোমোজোম একটি করে DNA অণু বহন করে)। S দশা, G₂ দশা: 4C পরিমাণ DNA (প্রতিটি ক্রোমোজোম দুটি DNA অণু বহন করে)। M দশা (সাইটোকাইনেসিসের পূর্ব পর্যন্ত): 4C পরিমাণ DNA।

(2) মাইটোটিক ফেজ (Mitotic phase): ইন্টারফেজ দশার পর মাইটোটিক ফেজ অর্থাৎ বিভাজন দশা শুরু হয়। এটি দুটি দশায় বিভক্ত। যথা—নিউক্লিয়াসের বিভাজন বা ক্যারিওকাইনেসিস ও সাইটোপ্লাজমের বিভাজন বা সাইটোকাইনেসিস।

৪। চিত্রসহ মাইটোসিসের মেটাফেজ ও প্রফেজ দশার বর্ণনা করো।
উত্তর: মেটাফেজ: এটি মাইটোসিস বিভাজনের দ্বিতীয় এবং স্বল্পস্থায়ী দশা। এই দশার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলি হল — (i) এই দশার শুরুতে নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয় পর্দা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়। (ii) বেম বা স্পিন্ডল (spindle) গঠিত হয়। বেমের উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বেমতন্তু (spindle fibres) বিস্তৃত থাকে। যে বেমতন্তুগুলির সঙ্গে ক্রোমোজোম সংলগ্ন থাকে, তাদের ক্রোমোজোমীয় তন্তু (chromosomal fibres) এবং যে বেমতন্তুগুলি এক মেরু থেকে অপর মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, তাদের অবিচ্ছিন্ন তন্তু (continuous fibre) বলে। (iii) ক্রোমোজোমগুলির বেমের বিষুব অঞ্চলে বা নিরক্ষীয় তলে (equatorial plane) অর্থাৎ বেমের মাঝখানে ক্রোমোজোমীয় তন্তুর সঙ্গে সেন্ট্রিমিয়ারের সাহায্যে সংলগ্ন থাকে। প্রাণীকোশের ক্ষেত্রে ছোটো ক্রোমোজোমগুলি বেমের পরিধির দিকে এবং অপেক্ষাকৃত বড়ো ক্রোমোজোমগুলি বেমের কেন্দ্রের দিকে অবস্থান করে। উদ্ভিদ কোশের ক্ষেত্রে ক্রোমোজোমগুলি বেমের বিষুব অঞ্চলে সম্পূর্ণ পরিধিকে ঘিরে অবস্থান করে। এই দশায় স্পাইরাইলেশন সর্বাধিক হওয়ায় ক্রোমাটিডযুক্ত ক্রোমোজোমগুলিকে স্পষ্ট ভাবে দেখা যায় ও গোনা যায়।

প্রাণীকোশের ক্ষেত্রে সেন্ট্রিওল এবং উদ্ভিদ কোশের ক্ষেত্রে সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত মাইক্রোটিউবিউল বেমতন্তু গঠন করে।

(1) প্রফেজ: এটি নিউক্লিয়াস বিভাজনের প্রথম ও দীর্ঘস্থায়ী দশা। এই দশার বৈশিষ্ট্যগুলি হল—(i) এই দশায় ক্রোমাটিন সূত্রগুলি জল বিয়োজন ঘটিয়ে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে। (ii) ক্রোমাটিন সূত্রগুলি কুণ্ডলীকৃত হয়ে ক্রমশ ছোটো ও মোটা হয় এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম সৃষ্টি করে। (iii) প্রতিটি ক্রোমোজোম সেন্ট্রোমিয়ার অঞ্চল ছাড়া লম্বালম্বিভাবে বিভাজিত হয়ে দুটি করে ক্রোমাটিড গঠন করে। ক্রোমাটিডদ্বয় পরস্পর সেন্ট্রোমিয়ার অঞ্চলে সংলগ্ন থাকে। (iv) প্রতিটি ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিডদ্বয় পরস্পরকে নিবিড়ভাবে পেঁচিয়ে অবস্থান করে। প্যাঁচানো অবস্থাকে প্লেক্টোনোমিক কুণ্ডলী (plectonomic coil) এবং প্যাঁচানো পদ্ধতিকে স্পাইরাইলেজেশন (spirilazation) বলে। (v) প্রফেজ দশা চলাকালীন নিউক্লিওলাসটি আকারে ক্রমশ ছোটো হতে থাকে এবং শেষের দিকে পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়। (vi) প্রফেজের শেষের দিকে নিউক্লিয় পর্দার বিলুপ্তি ঘটে।

প্রাণীদের ক্ষেত্রে সেন্ট্রোজোমের সেন্ট্রিওল দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি সেন্ট্রিওল গঠন করে এবং নিউক্লিয়াসের দুই বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে। নতুন সেন্ট্রিওলকে ঘিরে আস্ট্রাল রশ্মির (astral rays) আবির্ভাব ঘটে। উভয় প্রান্তের আস্ট্রাল রশ্মি পরস্পর জোড়া লেগে বেমতন্তু (spindle fibre) গঠন করে।

৫। মিয়োসিসে ক্রোমোজোম হ্রাস বিভাজন বলে কেন? মিয়োসিসের তাৎপর্যগুলি উল্লেখ করো।
উত্তর: মিয়োসিসকে হ্রাস বিভাজন বলার কারণ: মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় মাতৃকোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা অপত্য কোশে অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় মিয়োসিসকে হ্রাস বিভাজন বা রিডাকশন ডিভিশন বলে। মিয়োসিসের আনাফেজ-I দশাতে সমসংখ্যক ক্রোমোজোমগুলি পরস্পর পৃথক হয়ে বিপরীত মেরুর দিকে গমন করে। এর ফলে উভয় মেরুতে সমসংখ্যক ক্রোমোজোমের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়। মানুষের ক্ষেত্রে মিয়োসিসের সময় 2n = 46 প্রকৃতির ডিপ্লয়েড জনিতৃ কোশ থেকে n = 23 প্রকৃতির হ্যাপ্লয়েড অপত্য গ্যামেট তৈরি হয়।

মিয়োসিসের তাৎপর্য (Significance of Meiosis):

① প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা: মিয়োসিসের ফলে ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃকোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস ঘটিয়ে হ্যাপ্লয়েড (n) জনন কোশ সৃষ্টি হয়। দুটি হ্যাপ্লয়েড জনন কোশ মিলিত হয়ে পুনরায় ডিপ্লয়েড কোশ সৃষ্টি হয়। ক্রোমোজোম সংখ্যার হ্রাস না ঘটলে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা 2n থেকে 4n, 8n, 16n হারে বেড়ে যেত। সুতরাং মিয়োসিসের ফলে ক্রোমোজোম সংখ্যার হ্রাস ঘটে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা বংশপরম্পরায় ধ্রুবক থাকে।

② ক্রোমাটিডের খণ্ডবিনিময়: মিয়োসিসের সময় দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে খণ্ড বিনিময় ঘটার ফলে জিনের পুনর্বিন্যাস ঘটে।

③ জীবের মধ্যে প্রকরণের উৎপত্তি: মিয়োসিস বিভাজনকালে ক্রসিং ওভার ঘটার ফলে যে জিন বিনিময় হয় তার দ্বারা প্রজাতির জিনগত ভেদ বা প্রজননিক প্রকরণ ঘটে। প্রকরণ বিবর্তনের প্রধান রসদ।

④ গ্যামেট উৎপাদন: জনন মাতৃকোশে মিয়োসিস বিভাজনের ফলে গ্যামেট উৎপাদন হয়।

⑤ জনুক্রম: মিয়োসিস বিভাজনের ফলে উৎপন্ন গ্যামেট বা স্পোর জীবদের বিশেষ করে উদ্ভিদের জীবনচক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বহুকোশী উদ্ভিদের হ্যাপ্লয়েড গ্যামেটোফাইট দশা ও ডিপ্লয়েড স্পোরোফাইট দশার জনুক্রমে তাদের স্থায়িত্বকাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্যামেট ও স্পোরের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

৬। উপযুক্ত উদাহরণসহ অযৌন জননের পাঁচটি পদ্ধতি বর্ণনা করো।
উত্তর:

ক্রমপদ্ধতিবর্ণনাউদাহরণ
১.বিভাজন (Fission)এই পদ্ধতিতে জনিতৃ জীবের দেহ দুই বা বহু ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রতিটি ভাগ পূর্ণাঙ্গ অপত্য জীবে পরিণত হয়। এটি দু-রকমের—(i) দ্বিবিভাজন: নিউক্লিয়াস প্রথমে বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠন করে, পরে সাইটোপ্লাজম বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য জীব সৃষ্টি করে। (ii) বহুবিভাজন: নিউক্লিয়াস বারবার বিভাজিত হয়ে অসংখ্য অপত্য নিউক্লিয়াস (মেরোজয়েট) গঠন করে, যা থেকে অসংখ্য অপত্য জীব সৃষ্টি হয়।অ্যামিবা (দ্বিবিভাজন), প্লাসমোডিয়াম (বহুবিভাজন)
২.কোরকোদগম (Budding)জনিতৃ দেহের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ক্ষুদ্র স্ফীতি বা কোরক (bud) সৃষ্টি হয়, যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে অপত্য জীবে পরিণত হয়। অপত্য জীবটি জনিতৃ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করে অথবা যুক্ত থেকে উপনিবেশ গঠন করে।হাইড্রা, ইস্ট (Yeast), স্পঞ্জ
৩.খণ্ডীভবন (Fragmentation)জনিতৃ জীবের দেহ স্বাভাবিক বা আঘাতের ফলে দুই বা ততোধিক খণ্ডে বিভক্ত হয় এবং প্রতিটি খণ্ড পুনরুৎপাদন ক্ষমতাবলে সম্পূর্ণ অপত্য জীবে পরিণত হয়।স্পাইরোগাইরা (শৈবাল), প্ল্যানেরিয়া
৪.রেণু উৎপাদন (Spore Formation)জনিতৃ জীবের দেহের অন্তঃস্থ প্রকোষ্ঠে (স্পোরাঞ্জিয়ামে) অসংখ্য আণুবীক্ষণিক রেণু (spore) সৃষ্টি হয়। অনুকূল পরিবেশ পেলে প্রতিটি রেণু অঙ্কুরিত হয়ে নতুন অপত্য জীবে পরিণত হয়।মিউকর (ছত্রাক), রাইজোপাস, ফার্ন
৫.অঙ্গজ জনন/পুনরুৎপাদন (Vegetative Propagation)জীবের দেহের কোনো অঙ্গ বা অঙ্গের অংশ (যেমন—মূল, কাণ্ড, পাতা) থেকে সরাসরি নতুন অপত্য জীবের সৃষ্টি হয়, কোনো জননকোশের প্রয়োজন হয় না।আলু (কাণ্ড), পাথরকুচি (পাতা), গোলাপ (কলম)

৭। অঙ্গজ জনন কাকে বলে? প্রধান তিন প্রকার অঙ্গজ জনন পদ্ধতি বর্ণনা করো।”
উত্তর: অঙ্গজ জনন (Vegetative Reproduction):
উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড বা পাতার মতো কোনো অঙ্গ বা অঙ্গের অংশ থেকে জননকোশের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি নতুন অপত্য উদ্ভিদের সৃষ্টি হলে, তাকে অঙ্গজ জনন বলে।

প্রধান তিন প্রকার অঙ্গজ জনন পদ্ধতি:
(i) প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন (Natural Vegetative Reproduction): উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড বা পাতার মতো অঙ্গ থেকে স্বাভাবিক নিয়মে নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয়।

মূলের মাধ্যমে: মিষ্টি আলু, ডালিয়া।
কাণ্ডের মাধ্যমে: আলু (কন্দ), আদা (রাইজোম), পেঁয়াজ (বাল্ব)।
পাতার মাধ্যমে: পাথরকুচি, ব্রায়োফিলাম।

(ii) কৃত্রিম অঙ্গজ জনন (Artificial Vegetative Reproduction): মানুষের প্রচেষ্টায় উদ্ভিদের অঙ্গের সাহায্যে কৃত্রিম উপায়ে নতুন উদ্ভিদ তৈরি করা হয়।

কাটিং (Cutting): গোলাপ, আঙুর।
লেয়ারিং (Layering): জুঁই, মালতী।
গ্রাফটিং (Grafting): আম, কমলালেবু।

(iii) কলা কৃষ্টি বা টিস্যু কালচার (Tissue Culture): উদ্ভিদের কোনো জীবিত কলাকে (টিস্যু) কৃত্রিম পুষ্টি মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে বংশবিস্তার ঘটিয়ে সম্পূর্ণ নতুন উদ্ভিদ তৈরি করা হয়।

উদাহরণ: কলা, অর্কিড, আখ প্রভৃতি উদ্ভিদের অধিক সংখ্যক ও রোগমুক্ত চারা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

৮। শাখাকলম ও জোড়কলমের সাহায্যে কীভাবে কৃত্রিম অঙ্গজ জনন সম্পন্ন হয় তা সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: কৃত্রিম অঙ্গজ জনন: শাখাকলম ও জোড়কলম

১) শাখাকলম (Cutting): শাখাকলম পদ্ধতিতে উদ্ভিদের কাণ্ড, মূল বা পাতার একটি অংশ (কলম) কেটে নিয়ে সরাসরি মাটিতে রোপণ করা হয়। এই পদ্ধতির ধাপগুলি হলো –

  • মাতৃউদ্ভিদ থেকে সুস্থ, বহুবর্ষজীবী কাণ্ডের একটি অংশ (যাতে অন্তত ২-৩টি নিষ্ক্রিয় মুকুল বা কুঁড়ি থাকে) কেটে নেওয়া হয়।
  • কাটা অংশটি উপযুক্ত মাটিতে বা মাটি-মিশ্রিত মাধ্যমে পুঁতে দেওয়া হয়।
  • কিছুদিন পর কলমের নিচের প্রান্ত থেকে অস্থানিক মূল (adventitious root) এবং উপরের কুঁড়ি থেকে নতুন কাণ্ড ও পাতা গজায়।
  • এভাবে একটি সম্পূর্ণ নতুন উদ্ভিদ তৈরি হয়, যা মাতৃউদ্ভিদের হুবহু বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হয়।

উদাহরণ: গোলাপ, বোগেনভিলিয়া, আখ ইত্যাদি।

২) জোড়কলম (Grafting): জোড়কলম পদ্ধতিতে দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের অংশ জোড়া লাগিয়ে একটি নতুন উদ্ভিদ তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতিতে—

  • একটি উদ্ভিদের মূলসহ নিচের অংশকে বলা হয় গুঁড়িকাণ্ড বা স্টক (stock)।
  • যে উদ্ভিদের ভালো জাতের ডাল বা কুঁড়িযুক্ত অংশ জোড়া দেওয়া হয়, তাকে বলা হয় সিয়ন (scion)।
  • স্টক ও সিয়নের কর্তিত অংশ দুটিকে এমনভাবে কাটা হয় যাতে উভয়ের ক্যাম্বিয়াম স্তর (cambium layer) পরস্পর সংস্পর্শে আসে।
  • এরপর অংশ দুটিকে শক্ত করে বেঁধে বা মোম দিয়ে আটকে দেওয়া হয়, যাতে জলীয় বাষ্প বের হয়ে না যায় এবং সংক্রমণ না ঘটে।
  • কিছুদিনের মধ্যে ক্যাম্বিয়াম স্তর দুটি জোড়া লেগে একত্রিত হয়ে যায় এবং সিয়ন থেকে নতুন কাণ্ড, পাতা ও ফুল-ফল উৎপন্ন হয়, কিন্তু মূলতন্ত্র থাকে স্টকের নিজস্ব।

উদাহরণ: আম, গোলাপ, কমলালেবু প্রভৃতি ফলের ভালো জাত তৈরিতে জোড়কলম ব্যবহৃত হয়।

সংক্ষেপে পার্থক্য: শাখাকলমে একটি মাত্র উদ্ভিদাংশ থেকে সরাসরি নতুন উদ্ভিদ তৈরি হয়, কিন্তু জোড়কলমে দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের (স্টক ও সিয়ন) অংশ জোড়া লাগিয়ে একটি সংকর বৈশিষ্ট্ : A. টাং গ্রাফটিং, B. ওয়েজ গ্রাফটিং, C. ক্রাউন গ্রাফটিং, D. সাইড গ্রাফটিং, E. অ্যাপ্রোচ গ্রাফটিং, F. বাড গ্রাফটিং

৯। জনুক্রম কাকে বলে? ফার্নের জনুক্রম রেখাচিত্রের সাহায্যে বর্ণনা করো।
উত্তর: ডিপ্লয়েড দশায় নিউক্লিয়াসে 2n সংখ্যক ক্রোমোজোম এবং হ্যাপ্লয়েড দশায় নিউক্লিয়াসে n সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। নিষেকের ফলে হ্যাপ্লয়েড কোশ পুনরায় ডিপ্লয়েড কোশ গঠন করে। নিষেকের পূর্বে ডিপ্লয়েড কোশের অর্থাৎ জনন মাতৃকোশের মিয়োসিস বিভাজন ঘটে, ফলে হ্যাপ্লয়েড জনন কোশ উৎপন্ন হয়। ডিপ্লয়েড ও হ্যাপ্লয়েড জনু পর্যায়ক্রমে ঘটে যে জীবনচক্র সম্পন্ন হয়, তাকে জনুক্রম বলে।

ফার্নের জীবনচক্রে সুস্পষ্ট জনুক্রম উপস্থিত। ফার্নে মূল উদ্ভিদদেহ রেণুধর (sporophytic) এবং ডিপ্লয়েড (2n) প্রকৃতির। রেণুধর উদ্ভিদের রেণুস্থলীতে রেণু (spore) সৃষ্টি হয়। ডিপ্লয়েড রেণুমাতৃকোশ (2n) মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড রেণু (n) উৎপন্ন করে। রেণু অঙ্কুরিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড লিঙ্গধর দেহ (প্রোথ্যালাস) সৃষ্টি করে।

সহবাসী লিঙ্গধর উদ্ভিদে (প্রোথ্যালাসে) পুংধানী (antheridium) ও স্ত্রীধানী (archegonium) উৎপন্ন হয়। পুংধানীতে শুক্রাণু (n) এবং স্ত্রীধানীতে ডিম্বাণু (n) সৃষ্টি হয়। নিষেকের ফলে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটলে জাইগোট (2n) সৃষ্টি হয়। জাইগোট থেকে ভ্রূণ এবং ভ্রূণ থেকে ডিপ্লয়েড রেণুধর দেহ (2n) উৎপন্ন হয়।

এভাবে ডিপ্লয়েড রেণুধর জনু (sporophyte) ও হ্যাপ্লয়েড লিঙ্গধর জনু (gametophyte) পর্যায়ক্রমে সৃষ্টি হয়ে যে জীবনচক্র সম্পন্ন হয়, তাকেই জনুক্রম (Alternation of Generation) বলে।

১০। পরাগযোগ কাকে বলে? স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি বর্ণনা করো।
উত্তর: ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু একই ফুলের বা একই গাছের অন্য ফুলের বা একই প্রজাতিভুক্ত অন্য গাছের ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরকে পরাগযোগ বা পলিনেশন বলে।

১) স্বপরাগযোগ (Self-pollination): একই ফুলের বা একই গাছের পরাগরেণু একই গাছের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে স্বপরাগযোগ বলে।

সুবিধা:

  • পরাগযোগের জন্য বাহ্যিক মাধ্যম (বায়ু, পতঙ্গ, জল ইত্যাদি) প্রয়োজন হয় না, তাই নিশ্চিত ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
  • মাতৃউদ্ভিদের বিশুদ্ধ বংশধারা (genetic purity) বজায় থাকে, কারণ নতুন জিনের মিশ্রণ ঘটে না।
  • অল্প পরিমাণ পরাগরেণু উৎপাদন করলেই চলে, তাই শক্তি ও সম্পদের অপচয় কম হয়।
  • বিচ্ছিন্ন বা একক উদ্ভিদেও (যেখানে পরাগযোগের বাহক নেই) বংশবিস্তার সম্ভব হয়।
  • ভালো বৈশিষ্ট্যযুক্ত জাত অপরিবর্তিত রাখা যায়, যা কৃষিক্ষেত্রে বিশুদ্ধ জাত সংরক্ষণে সহায়ক।

অসুবিধা:

  • বংশধরদের মধ্যে বৈচিত্র্য (variation) সৃষ্টি হয় না, ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটে না।
  • ক্রমাগত স্বপরাগযোগের ফলে ক্ষতিকর প্রচ্ছন্ন জিন (recessive gene) প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে, যা উদ্ভিদের দুর্বলতা ও অবক্ষয় (degeneration) ঘটাতে পারে।
  • পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর (adaptation) ক্ষমতা কমে যায়।
  • রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, ফলে কোনো রোগ বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ জাত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

২) ইতর-পরাগযোগ (Cross-pollination): একই প্রজাতির ভিন্ন গাছের ফুলের পরাগরেণু অন্য গাছের ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে ইতর-পরাগযোগ বলে।

সুবিধা:

  • বংশধরদের মধ্যে জিনগত বৈচিত্র্য (genetic variation) সৃষ্টি হয়, যা প্রজাতির অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ায়।
  • উদ্ভিদের মধ্যে নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্য (যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, অধিক ফলন) সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • সৃষ্ট বীজ ও চারা তুলনামূলকভাবে বেশি সবল ও কর্মক্ষম (hybrid vigour) হয়।
  • পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে টিকে থাকার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

অসুবিধা:

  • পরাগযোগের জন্য বাহ্যিক মাধ্যম (বায়ু, পতঙ্গ, পাখি, জল ইত্যাদি) আবশ্যক, তাই এটি অনিশ্চিত ও পরিবেশনির্ভর।
  • প্রচুর পরিমাণ পরাগরেণু উৎপাদন করতে হয়, ফলে শক্তি ও সম্পদের অপচয় বেশি হয়।
  • মাতৃউদ্ভিদের নির্দিষ্ট ভালো বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত নাও থাকতে পারে (বিশুদ্ধতা নষ্ট হতে পারে)।
  • পরাগযোগ বাহকের অনুপস্থিতিতে নিষেক ব্যর্থ হতে পারে, ফলে বীজ উৎপাদন ব্যাহত হয়।

১১। নিষেক কাকে বলে? সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হয় তা সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
উত্তর: নিষেকের সংজ্ঞা: পুংজনন কোশ (male gamete) ও স্ত্রীজনন কোশের (female gamete/egg cell) মিলনকে নিষেক বা গর্ভাধান (Fertilization) বলে।

সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক প্রক্রিয়াটি নিম্নলিখিত ধাপে সম্পন্ন হয় —

① পরাগযোগের পূর্বের ঘটনাসমূহ:

Ⓐ পুংস্তবকের মধ্যে ঘটে চলা পরিবর্তনসমূহ (পুংলিঙ্গাধর গঠন):

(i) পরাগধানীর ভিতরে ডিপ্লয়েড (2n) পরাগরেণু মাতৃকোশ সমষ্টি উপস্থিত থাকে।

(ii) মিয়োসিস কোশবিভাজন প্রক্রিয়ার দ্বারা প্রত্যেকটি ডিপ্লয়েড পরাগরেণু মাতৃকোশ থেকে চারটি করে হ্যাপ্লয়েড (n) পরাগরেণু উৎপাদিত হয়।

(iii) প্রতিটি পরাগরেণুর অভ্যন্তরে মাইটোসিস কোশবিভাজন শুরু হয় এবং প্রত্যেকটি পরাগরেণু দুটি হ্যাপ্লয়েড (n) কোশবিশিষ্ট পুংলিঙ্গাধর উদ্ভিদে (male gametophyte) পরিণত হয় — একটি নালিকোশ (tube cell) ও একটি জননকোশ (generative cell)।

Ⓑ স্ত্রীস্তবকের মধ্যে ঘটে চলা পরিবর্তনসমূহ (স্ত্রীলিঙ্গাধর গঠন):
(i) গর্ভাশয়ের ডিম্বকের ভিতরে একটি ডিপ্লয়েড (2n) ভ্রূণকোশ মাতৃকোশ (megaspore mother cell) উপস্থিত থাকে।

(ii) মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে এই কোশ থেকে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) ভ্রূণকোশ (megaspore) উৎপন্ন হয়, যার মধ্যে তিনটি নষ্ট হয়ে যায় এবং একটি কার্যকর থাকে।

(iii) কার্যকর ভ্রূণকোশটি পরপর তিনবার মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে ৮টি নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ৭ কোশীয় ভ্রূণথলি (embryo sac) গঠন করে, যাতে থাকে— ১টি ডিম্বাণু (egg cell), ২টি সহকোশ (synergid), ৩টি প্রতিমেরু কোশ (antipodal cell) এবং ১টি দ্বি-নিউক্লিয়াসযুক্ত সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াস (secondary/polar nucleus)।

② পরাগযোগ (Pollination): পরাগধানী ফেটে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে (stigma) স্থানান্তরিত হয়, যাকে পরাগযোগ বলে।

③ পরাগনালি সৃষ্টি ও পুংগ্যামেট বহন: গর্ভমুণ্ডে পরাগরেণু অঙ্কুরিত হয়ে গর্ভদণ্ডের (style) মধ্য দিয়ে একটি পরাগনালি (pollen tube) সৃষ্টি করে। জননকোশটি বিভাজিত হয়ে দুটি পুংগ্যামেট (male gamete) সৃষ্টি করে। পরাগনালি গর্ভাশয়ে পৌঁছে ডিম্বকরন্ধ্র (micropyle) দিয়ে ভ্রূণথলিতে প্রবেশ করে এবং দুটি পুংগ্যামেটকে মুক্ত করে দেয়।

④ দ্বি-নিষেক (Double Fertilization):

(i) একটি পুংগ্যামেট (n) ডিম্বাণুর (n) সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট (2n) সৃষ্টি করে — একে বলে সেহনিষেক (syngamy)।

(ii) অপর পুংগ্যামেটটি (n) সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের (2n) সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড (3n) প্রাথমিক ভ্রূণপুষ্টি কোশ (primary endosperm cell) গঠন করে — একে বলে ত্রিপ্রণয় বা ট্রিপল ফিউশন (triple fusion)।

এই দুটি মিলন একসাথে ঘটে বলে একে দ্বি-নিষেক (double fertilization) বলা হয়, যা সপুষ্পক উদ্ভিদের একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঘটনা।

১২। পরাগযোগ ও নিষেকের ফলে কীভাবে অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি হয় তা সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: পরাগযোগের ফলে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়ে অঙ্কুরিত হয় এবং পরাগনালি সৃষ্টি করে গর্ভাশয়ে পৌঁছে ডিম্বকের ভ্রূণথলিতে প্রবেশ করে। এরপর দ্বি-নিষেক ঘটে।

একটি পুংগ্যামেট (n) ডিম্বাণুর (n) সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট (2n) সৃষ্টি করে, এবং অপর পুংগ্যামেটটি নির্ণীত নিউক্লিয়াসের (2n) সাথে মিলিত হয়ে প্রাথমিক ভ্রূণপুষ্টি কোশ (3n) গঠন করে।

জাইগোট (2n) বারংবার মাইটোসিস কোশবিভাজনের মাধ্যমে বৃদ্ধি পেয়ে প্রথমে ভ্রূণ (embryo)-তে পরিণত হয়। প্রাথমিক ভ্রূণপুষ্টি কোশ (3n) বিভাজিত হয়ে ভ্রূণপুষ্টি বা এন্ডোস্পার্ম সৃষ্টি করে, যা ক্রমবর্ধমান ভ্রূণের পুষ্টি সরবরাহ করে।

ডিম্বকের বহিঃত্বক শক্ত হয়ে বীজত্বকে পরিণত হয় এবং সমগ্র ডিম্বকটি রূপান্তরিত হয়ে বীজ (seed)-এ পরিণত হয়, যার ভিতরে ভ্রূণটি সুরক্ষিত থাকে।

অনুকূল পরিবেশ পেলে এই বীজ অঙ্কুরিত (germinate) হয়। বীজত্বক ফেটে গিয়ে ভ্রূণমূল থেকে মূল এবং ভ্রূণকাণ্ড থেকে কাণ্ড ও পাতা সৃষ্টি হয়। ভ্রূণটি ক্রমাগত কোশ বিভাজন ও বৃদ্ধির মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিণত হয়ে একটি সম্পূর্ণ অপত্য উদ্ভিদ (offspring plant)-এ পরিণত হয়, যা মাতৃউদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য বহন করে।

এভাবে পরাগযোগ ও নিষেকের মাধ্যমে জাইগোট থেকে ভ্রূণ, ভ্রূণ থেকে বীজ এবং বীজের অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে একটি নতুন অপত্য উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।

১৩। বৃদ্ধি কাকে বলে? বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিকাশের সম্পর্ক কী?
উত্তর: বৃদ্ধি (Growth): নতুন কোশীয় পদার্থ সংশ্লেষণের ফলে জীবদেহের বা জীবকোশের আকার, আয়তন বা ভরের স্থায়ীভাবে বেড়ে যাওয়াকে, বিশেষ করে শুষ্ক ওজন বেড়ে যাওয়াকে বৃদ্ধি বলে।

বৃদ্ধি ও বিকাশের মধ্যে সম্পর্ক: বৃদ্ধি ও বিকাশ দুটি পৃথক ঘটনা, কিন্তু পরস্পর নির্ভরশীল। বৃদ্ধি হল জীবের শুষ্ক ভর বেড়ে যাওয়া, অপরপক্ষে বিকাশ হল কোনো জীবের জটিলতা বেড়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া।

(i) বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবদেহের আকৃতি ও গঠনের পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু বিকাশের ফলে জীবদেহের অঙ্গসংস্থানিক ও শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে।

(ii) বিকাশের ফলে জীবদেহের সামগ্রিক ও প্রগতিশীল পরিবর্তন ঘটে।

(iii) বৃদ্ধি নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত ঘটে, কিন্তু বিকাশ জীবের মৃত্যু পর্যন্ত চলতে থাকে।

(iv) বৃদ্ধি সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায়, কিন্তু বৃদ্ধির কারণে বিকাশ পরিপূর্ণতা পায়।

একককোশী জীবদের ক্ষেত্রে নতুন অপত্য কোশটি বৃদ্ধি পেয়ে পরিণতি প্রাপ্ত হয়। বহুকোশী জীবদের ক্ষেত্রে বারবার কোশবিভাজন ঘটে, কোশের সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটে, কোশগুলি কলাস্তরে বিন্যস্ত হয় এবং বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি পূর্ণাবয়ব সৃষ্টি হয়।

১৪। মানববিকাশের বিভিন্ন স্তরগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: মানববিকাশের বিভিন্ন স্তর

মানুষের জন্মের পূর্ব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সম্পূর্ণ জীবনকালকে কয়েকটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। এগুলি হলো —

১) ভ্রূণীয় স্তর বা জন্মপূর্ব দশা (Prenatal stage): নিষেকের পর জাইগোট থেকে সন্তান জন্মগ্রহণ করা পর্যন্ত সময়কালকে এই স্তরে ভাগ করা হয়। এই স্তরটি আবার তিন ভাগে বিভক্ত—

  • ভ্রূণপূর্ব দশা (Germinal stage): নিষেকের পর প্রথম দুই সপ্তাহ। এই সময় জাইগোট বারবার বিভাজিত হয়ে ব্লাস্টোসিস্ট গঠন করে এবং জরায়ুর প্রাচীরে সংস্থাপিত (implantation) হয়।
  • ভ্রূণ দশা (Embryonic stage): নিষেকের পর তৃতীয় থেকে অষ্টম সপ্তাহ পর্যন্ত। এই সময় বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের প্রাথমিক গঠন (organogenesis) শুরু হয়।
  • গর্ভস্থ শিশু দশা (Foetal stage): নবম সপ্তাহ থেকে জন্ম পর্যন্ত। এই সময় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলি পূর্ণাঙ্গ আকার ও কার্যক্ষমতা লাভ করে।

২) সদ্যোজাত দশা (Infancy): জন্মের পর থেকে প্রায় ১-২ বছর বয়স পর্যন্ত। এই সময় শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত ঘটে এবং মৌলিক প্রতিবর্তী ক্রিয়া (reflex action) দেখা যায়।

৩) শৈশব দশা (Childhood): প্রায় ২ থেকে ১০-১২ বছর বয়স পর্যন্ত। এই সময় শারীরিক বৃদ্ধির পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক বিকাশ ঘটে এবং স্থায়ী দাঁত গজানো শুরু হয়।

৪) বয়ঃসন্ধিকাল বা কৈশোর দশা (Adolescence/Puberty): প্রায় ১১-১৩ বছর থেকে ১৮-১৯ বছর বয়স পর্যন্ত। এই স্তরে জননগ্রন্থি সক্রিয় হয়ে বিভিন্ন হরমোন ক্ষরণ করে, ফলে গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য (secondary sexual characters) প্রকাশ পায় এবং জননক্ষমতা অর্জিত হয়।

৫) যৌবন দশা (Adulthood): প্রায় ১৮-২০ বছর থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত। এই সময় দেহের পূর্ণ বৃদ্ধি সম্পন্ন হয় এবং ব্যক্তি শারীরিক, মানসিক ও প্রজননগতভাবে সম্পূর্ণ পরিণত থাকে।

৬) বার্ধক্য দশা (Old age/Senescence): প্রায় ৬০ বছর বয়সের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। এই স্তরে দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কর্মক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায় এবং জরাজীর্ণতার লক্ষণ প্রকাশ পায়।

এভাবে জন্মপূর্ব দশা থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত ধারাবাহিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানববিকাশ সম্পন্ন হয়।

১৫। একটি কোশচক্রের ইন্টারফেজের বিভিন্ন দশায় কী কী ধরনের রাসায়নিক উপাদান সংশ্লেষিত হয়? একটি কোশচক্রের বিভিন্ন বিন্দুতে স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে কী ঘটতে পারে?

উত্তর: ইন্টারফেজের বিভিন্ন দশায় রাসায়নিক উপাদান সংশ্লেষ: কোশচক্রের ইন্টারফেজ দশা তিনটি উপদশায় বিভক্ত — G₁, S এবং G₂। প্রতিটি দশায় নির্দিষ্ট রাসায়নিক উপাদান সংশ্লেষিত হয়।

(i) G₁ দশা (First Gap phase): এই দশায় কোশের আকার বৃদ্ধি পায় এবং RNA, প্রোটিন, এনজাইম ও বিভিন্ন কোশীয় অঙ্গাণু (organelle) সংশ্লেষিত হয়। এছাড়া DNA প্রতিলিপনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন এনজাইম ও অগ্রদূত অণু (precursor molecule) তৈরি হয়।

(ii) S দশা (Synthesis phase): এই দশায় DNA প্রতিলিপন (DNA replication) ঘটে, ফলে DNA-র পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যায়। সেন্ট্রিওলের প্রতিলিপনও এই দশায় ঘটে। এছাড়া হিস্টোন প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়, যা নবগঠিত DNA-র সাথে যুক্ত হয়ে ক্রোমাটিন গঠন করে।

(iii) G₂ দশা (Second Gap phase): এই দশায় মাইটোসিস কোশবিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রোটিন (যেমন টিউবিউলিন, যা স্পিন্ডল তন্তু গঠনে সাহায্য করে) এবং এনজাইম সংশ্লেষিত হয়। কোশের শক্তি সঞ্চয় (ATP) বৃদ্ধি পায় এবং কোশ বিভাজনের জন্য প্রস্তুত হয়।

কোশচক্রের নিয়ন্ত্রণ বিন্দু নষ্ট হলে পরিণতি:

কোশচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে কতকগুলি নিয়ন্ত্রণ বিন্দু বা চেকপয়েন্ট (checkpoint) থাকে (যেমন G₁/S চেকপয়েন্ট, G₂/M চেকপয়েন্ট), যেগুলি কোশচক্রের স্বাভাবিক গতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ত্রুটিপূর্ণ কোশকে বিভাজিত হতে বাধা দেয়।

এই স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কোনো কারণে (যেমন জিন পরিব্যক্তি বা mutation) নষ্ট হয়ে গেলে—

(i) কোশ অনিয়ন্ত্রিতভাবে ও অবিরামভাবে বিভাজিত হতে থাকে, কোশবিভাজনের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়।

(ii) ত্রুটিপূর্ণ বা ক্ষতিগ্রস্ত DNA-যুক্ত কোশও বিভাজিত হতে থাকে, ফলে অস্বাভাবিক কোশের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

(iii) এই অনিয়ন্ত্রিত কোশ বিভাজনের ফলে কোশপুঞ্জ বা টিউমার (tumour) সৃষ্টি হয়।

(iv) এই টিউমার মারাত্মক (malignant) হলে তা দেহের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে (metastasis) এবং ক্যানসার (cancer) রোগের সৃষ্টি করে।

এইভাবে কোশচক্রের নিয়ন্ত্রণ বিন্দুর স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট হলে তা মারাত্মক ক্যানসার রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

১৬। ক্রোমোজোম, DNA এবং জিনের আন্তঃসম্পর্ক ব্যাখ্যা করো। ইউক্রোমাটিন ও হেটেরোক্রোমাটিনের মধ্যে নিম্নলিখিত দুটি বিষয়ে পার্থক্য লেখো— (i) কুণ্ডলি, (ii) সক্রিয়তা

উত্তর: ক্রোমোজোম, DNA ও জিনের আন্তঃসম্পর্ক: কোশের নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থিত সুতোর মতো গঠন, যা বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রোমোজোম বলে। প্রতিটি ক্রোমোজোম মূলত DNA (Deoxyribonucleic Acid) এবং প্রোটিন (প্রধানত হিস্টোন) দ্বারা গঠিত। DNA অণুটি ক্রোমোজোমের মধ্যে হিস্টোন প্রোটিনকে জড়িয়ে কুণ্ডলিত হয়ে থাকে, যাকে ক্রোমাটিন তন্তু বলে।

একটি DNA অণুর মধ্যে অসংখ্য নিউক্লিওটাইড পরপর সজ্জিত থাকে। এই দীর্ঘ DNA অণুর একটি নির্দিষ্ট, কার্যকরী অংশ (নির্দিষ্ট ক্রমবিন্যাসযুক্ত নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্স), যা একটি নির্দিষ্ট প্রোটিন বা RNA সংশ্লেষের নির্দেশ বহন করে এবং একটি নির্দিষ্ট বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে জিন বলে। অর্থাৎ, জিন হলো DNA-র একটি কার্যকরী একক (functional unit)।

সংক্ষেপে বলা যায় — একটি ক্রোমোজোমের মধ্যে একটি দীর্ঘ DNA অণু কুণ্ডলিত অবস্থায় থাকে, এবং সেই DNA অণুর মধ্যে পরপর অসংখ্য জিন সজ্জিত থাকে। অর্থাৎ, ক্রোমোজোম → DNA → জিন — এই তিনটির মধ্যে একটি ক্রমিক গঠনগত সম্পর্ক আছে, যেখানে জিন হলো বংশগতির প্রকৃত একক, DNA হলো জিনের রাসায়নিক ভিত্তি এবং ক্রোমোজোম হলো সেই DNA-র সুসংগঠিত বাহক কাঠামো।

ইউক্রোমাটিন ও হেটেরোক্রোমাটিনের মধ্যে পার্থক্য:

বিষয়ইউক্রোমাটিন (Euchromatin)হেটেরোক্রোমাটিন (Heterochromatin)
(i) কুণ্ডলিএই অংশ শিথিলভাবে কুণ্ডলিত (loosely coiled) থাকে, তাই হালকা রঙে রঞ্জিত হয়।এই অংশ নিবিড়ভাবে ঘনসন্নিবদ্ধ বা দৃঢ়ভাবে কুণ্ডলিত (tightly coiled/condensed) থাকে, তাই গাঢ় রঙে রঞ্জিত হয়।
(ii) সক্রিয়তাএই অংশ জিনগতভাবে সক্রিয় (genetically active), অর্থাৎ এখান থেকে RNA সংশ্লেষ (transcription) ও প্রোটিন সংশ্লেষ ঘটে।এই অংশ জিনগতভাবে নিষ্ক্রিয় (genetically inactive), অর্থাৎ এখান থেকে সাধারণত RNA বা প্রোটিন সংশ্লেষ ঘটে না।

১৭। মাইক্রোপ্রোপাগেশন কীভাবে সম্পন্ন হয়? সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননের নিম্নলিখিত তিনটি পর্যায়ের ঘটনাগুলি বিবৃত করো— (i) জনন কোশ বা গ্যামেট উৎপাদন, (ii) নিষেক, (iii) ভ্রূণ সৃষ্টি ও নতুন উদ্ভিদ গঠন

Biological Sciences

উত্তর: মাইক্রোপ্রোপাগেশন (Micropropagation): উদ্ভিদের কোনো অংশ (যেমন কাণ্ডাগ্র, কক্ষমুকুল, পাতা বা টিস্যুর ক্ষুদ্র অংশ, যাকে বলা হয় এক্সপ্লান্ট বা explant) নিয়ে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে (in vitro) কৃত্রিম পুষ্টি মাধ্যমে বংশবিস্তার ঘটানোর পদ্ধতিকে মাইক্রোপ্রোপাগেশন বা টিস্যু কালচার (Tissue Culture) বলে। এটি নিম্নলিখিত ধাপে সম্পন্ন হয়—

(i) এক্সপ্লান্ট সংগ্রহ: মাতৃউদ্ভিদের একটি সুস্থ ও কার্যকর অংশ (কাণ্ডাগ্র মুকুল, কক্ষমুকুল বা পাতার টুকরো) সংগ্রহ করা হয়।

(ii) জীবাণুমুক্তকরণ (Sterilization): সংগৃহীত এক্সপ্লান্টটিকে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য (যেমন সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট) দিয়ে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা হয়, যাতে কোনোরকম ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ না ঘটে।

(iii) কালচার মাধ্যমে স্থাপন: জীবাণুমুক্ত এক্সপ্লান্টটিকে বিশেষভাবে প্রস্তুত পুষ্টি মাধ্যমে (যাতে শর্করা, খনিজ লবণ, ভিটামিন এবং উদ্ভিদ হরমোন যেমন অক্সিন ও সাইটোকাইনিন উপযুক্ত অনুপাতে মেশানো থাকে) স্থাপন করা হয়।

(iv) ক্যালাস গঠন: উপযুক্ত উষ্ণতা, আলো ও আর্দ্রতাযুক্ত পরিবেশে এক্সপ্লান্টের কোশগুলি দ্রুত বিভাজিত হয়ে অবিভেদিত কোশপুঞ্জ বা ক্যালাস (callus) গঠন করে।

(v) পুনরুৎপাদন (Regeneration): হরমোনের অনুপাত পরিবর্তন করে ক্যালাস থেকে পুনরায় মূল, কাণ্ড ও পাতাযুক্ত ক্ষুদ্র উদ্ভিদ (plantlet) সৃষ্টি করা হয়।

(vi) সহনশীলকরণ ও রোপণ: উৎপন্ন ক্ষুদ্র উদ্ভিদগুলিকে ধীরে ধীরে বহিঃপরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ানো হয় (hardening) এবং পরে মাটিতে রোপণ করা হয়।

এইভাবে অল্প সময়ে মাতৃউদ্ভিদের অবিকল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রচুর সংখ্যক নতুন উদ্ভিদ উৎপাদন করা যায়।

সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননের তিনটি পর্যায়:

(i) জনন কোশ বা গ্যামেট উৎপাদন: পুংস্তবকের পরাগধানীর ভিতরে ডিপ্লয়েড (2n) পরাগরেণু মাতৃকোশ মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড (n) পরাগরেণু সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে পুংগ্যামেট উৎপন্ন করে। অন্যদিকে, স্ত্রীস্তবকের ডিম্বকের ভিতরে ডিপ্লয়েড (2n) ভ্রূণকোশ মাতৃকোশ মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড (n) ভ্রূণকোশ (megaspore) সৃষ্টি করে, যা পরপর মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণথলি গঠন করে এবং তার মধ্যে ডিম্বাণু (n) উৎপন্ন হয়।

(ii) নিষেক: পরাগযোগের পর পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে অঙ্কুরিত হয়ে পরাগনালি সৃষ্টি করে এবং ডিম্বকের ভ্রূণথলিতে পৌঁছে দুটি পুংগ্যামেট মুক্ত করে। একটি পুংগ্যামেট (n) ডিম্বাণুর (n) সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট (2n) সৃষ্টি করে (সেহনিষেক), এবং অপর পুংগ্যামেটটি নির্ণীত নিউক্লিয়াসের (2n) সাথে মিলিত হয়ে প্রাথমিক ভ্রূণপুষ্টি কোশ (3n) গঠন করে (ত্রিপ্রণয়)। এই দুই মিলন একসাথে ঘটে বলে একে দ্বি-নিষেক বলা হয়।

(iii) ভ্রূণ সৃষ্টি ও নতুন উদ্ভিদ গঠন: জাইগোট (2n) বারবার মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে বৃদ্ধি পেয়ে ভ্রূণ (embryo)-এ পরিণত হয়, যার মধ্যে ভ্রূণমূল, ভ্রূণকাণ্ড ও বীজপত্র গঠিত হয়। প্রাথমিক ভ্রূণপুষ্টি কোশ (3n) বিভাজিত হয়ে এন্ডোস্পার্ম সৃষ্টি করে, যা ভ্রূণের পুষ্টি জোগায়। ডিম্বকের বহিঃত্বক শক্ত হয়ে বীজত্বকে পরিণত হয় এবং সমগ্র ডিম্বকটি বীজে পরিণত হয়, আর গর্ভাশয় স্ফীত হয়ে ফল গঠন করে। অনুকূল পরিবেশ পেলে বীজ অঙ্কুরিত হয়ে নতুন অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি করে।

১৮। চিত্রসহ আদর্শ ক্রোমোজোমের বিভিন্ন অংশের বর্ণনা দাও।
উত্তর: আদর্শ ক্রোমোজোমের বিভিন্ন অংশের বর্ণনা:

১) ক্রোমাটিড (Chromatid): মেটাফেজ দশায় প্রতিটি ক্রোমোজোম দুটি সমান অংশে বিভক্ত থাকে, প্রতিটি অংশকে ক্রোমাটিড বলে। দুটি ক্রোমাটিড একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে বলে তাদের বলা হয় বোন ক্রোমাটিড (sister chromatid)।

২) সেন্ট্রোমিয়ার বা প্রধান সংকোচন (Centromere/Primary constriction): দুটি ক্রোমাটিডকে যে সরু, অরঞ্জিত অংশে পরস্পর যুক্ত রাখে তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে। এর সাথে যুক্ত থাকে কাইনেটোকোর (kinetochore), যার সাহায্যে স্পিন্ডল তন্তু যুক্ত হয়ে কোশ বিভাজনকালে ক্রোমোজোম দুই মেরুর দিকে গমন করে।

৩) বাহু (Arms): সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ভিত্তিতে ক্রোমোজোম দুটি বাহুতে বিভক্ত থাকে — তুলনামূলকভাবে ছোট বাহুকে খর্ব বাহু বা p-বাহু এবং বড় বাহুকে দীর্ঘ বাহু বা q-বাহু বলে।

৪) টেলোমিয়ার (Telomere): ক্রোমোজোমের দুই প্রান্তের অংশকে টেলোমিয়ার বলে। এটি ক্রোমোজোমকে ধ্বংস বা ক্ষয় থেকে রক্ষা করে এবং দুটি ভিন্ন ক্রোমোজোমের প্রান্ত পরস্পর যুক্ত হওয়া প্রতিরোধ করে।

৫) গৌণ সংকোচন (Secondary constriction): সেন্ট্রোমিয়ার ছাড়াও কোনো কোনো ক্রোমোজোমের একটি বাহুতে আরেকটি সরু, অরঞ্জিত অংশ দেখা যায়, একে গৌণ সংকোচন বলে। এই স্থান থেকে নিউক্লিওলাস গঠিত হয় বলে একে নিউক্লিওলার অর্গানাইজার (NOR) ও বলা হয়।

৬) স্যাটেলাইট (Satellite): গৌণ সংকোচনের পরবর্তী গোলাকার অংশটিকে স্যাটেলাইট বলে। যেসব ক্রোমোজোমে স্যাটেলাইট থাকে, তাদের বলা হয় স্যাট-ক্রোমোজোম (SAT-chromosome)।

এভাবে ক্রোমাটিড, সেন্ট্রোমিয়ার, বাহু, টেলোমিয়ার, গৌণ সংকোচন ও স্যাটেলাইট — এই অংশগুলি নিয়ে একটি আদর্শ ক্রোমোজোম গঠিত হয়।