নিরুদ্দেশ – প্রেমেন্দ্র মিত্র
সারাংশ:
‘নিরুদ্দেশ’ গল্পটি প্রেমেন্দ্র মিত্রের এক অনন্য সৃষ্টি। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র একটি কুকুর – যার নাম লালু।
লালু ছিল একটি সাধারণ রাস্তার কুকুর। একসময় সে একটি ছোট ছেলের সঙ্গী হয়ে ওঠে। ছেলেটি লালুকে খুব ভালোবাসত। কিন্তু একদিন ছেলেটির বাবা মা তাদের বাড়ি পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে যায়।
লালু তার পরিবার হারিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে পড়ে। তারপর সে রেল স্টেশনে রেলগাড়ি দেখে এবং ছেলেটির খোঁজে ছুটে চলে। গল্পটি লালুর একনিষ্ঠতা, ভালোবাসা ও আনুগত্যের করুণ চিত্র তুলে ধরে।
শব্দার্থ:
| শব্দ | অর্থ |
| নিরুদ্দেশ | যিনি বা যা হারিয়ে গেছে বা অদৃশ্য |
| আনুগত্য | বিশ্বস্ততা, অনুগমন |
| করুণ | দুঃখজনক, মর্মান্তিক |
| একনিষ্ঠতা | গভীর ভক্তি ও নিবেদন |
| সঙ্গী | সাথি |
প্রশ্নোত্তর:
- ‘নিরুদ্দেশ‘ গল্পের মূল চরিত্র কে?
উত্তর: ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের মূল চরিত্র হলো লালু নামক একটি কুকুর। - লালু কোথায় এবং কেন নিরুদ্দেশ হয়ে গেল?
উত্তর: লালু তার ভালোবাসার পরিবারের সন্ধানে রেলগাড়ির পেছনে ছুটতে ছুটতে হারিয়ে যায় এবং নিরুদ্দেশ হয়ে পড়ে। - লালুর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: লালু ছিল অত্যন্ত বিশ্বস্ত, স্নেহপরায়ণ এবং একনিষ্ঠ। সে তার প্রিয় ছেলেটির প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং আনুগত্য প্রকাশ করেছে। - ‘নিরুদ্দেশ‘ গল্পের মাধ্যমে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: লেখক এই গল্পের মাধ্যমে জীবজন্তুর মধ্যেও গভীর ভালোবাসা, আনুগত্য এবং স্নেহের অনুভূতি আছে তা বোঝাতে চেয়েছেন। পাশাপাশি তিনি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার মহত্ত্ব তুলে ধরেছেন।
- শোভন কতদিন বাদে তার বাড়ি ফিরে ছিল —
(A) প্রায় তিন বছর
(B) প্রায় দুই বছর
(C) প্রায় দেড় বছর
(D) প্রায় পাঁচ বছর
Ans: (B) প্রায় দুই বছর।
- ‘তারা ঠিক কঠিন হৃদয় নয়’ — তাদের মন কেমন?
(A) তৈলাক্ত
(B) সরল
(C) জটিল
(D) নিলিপ্ত
Ans: (A) তৈলাক্ত।
- ‘বাবা সন্ধ্যেবেলা অফিস থেকে ফিরে এসে দেখেন’ — কি দেখেন?
(A) মা শয্যাগত
(B) স্ত্রী অসুস্থ
(C) প্রবল অশান্তি চলছে
(D) ছেলে ফেরেনি
Ans: (D) ছেলে ফেরেনি।
- ‘মা ধমক দিয়ে বলেন’ — কি বলেন বক্তা?
(A) তুই একেবারেই পীর হয়েছিস
(B) এত বড় আস্পর্ধা
(C) কুলাঙ্গার হয়েছিস
(D) তুই থাম। এত আদর ভালো নয়
Ans: (D) তুই থাম। এত আদর ভালো নয়।
- ‘এবার তার স্বরে কাতরতা’ — কার স্বরে কাতরতা?
(A) শোভনের বাবার
(B) শোভনের
(C) সোমেশের
(D) শোভনের মায়ের
Ans: (B) শোভনের।
- শোভন তার বাড়িতে আসার আগে তার পরিচয় আর কয়জন তাদের বাড়িতে এসেছিল?
(A) দুজন
(B) একজন
(C) চারজন
(D) তিনজন
Ans: (D) তিনজন।
- “ইনি ভেতরে যেতে চাইছেন!” — কথাটি কার?
(A) খাজাঞ্চির
(B) নতুন খাজাঞ্চির
(C) দারোয়ানের
(D) নায়বের
Ans: (D) নায়বের।
- দিনটা কেমন ছিলো?
(A) ভারী গরম
(B) ভারী ঠান্ডা
(C) ভারী বৃষ্টি
(D) ভারি বিশ্রী
Ans: (D) ভারি বিশ্রী।
- “চেনেন একে” — কথাটি কার?
(A) খাজাঞ্চির
(B) নায়েবের
(C) শোভনের
(D) সোমেশের
Ans: (B) নায়েবের।
- “আঃ আর বকাবকি কেন?” — কথাটি কার?
(A) গল্পকথকের
(B) বাবার
(C) মায়ের
(D) শোভনের
Ans: (B) বাবার।
- “তুমি জানোনা, এই বিজ্ঞাপনের পেছনে অনেক সত্য কার ট্রাজিডি থাকে।” — কথাটি কার?
(A) শোভনের
(B) সোমেশের
(C) গল্পের নিরুদ্দিষ্টের
(D) গল্পকথকের
Ans:(B) সোমেশের।
- “আজকের কাগজে একসঙ্গে _____ নিরুদ্দেশ এর বিজ্ঞাপন।”
(A) ছয় সাতটা
(B) পাঁচ-পাঁচটা
(C) সাত সাতটা
(D) সাত-আটটা
Ans: (D) সাত সাতটা।
- ‘এত আমারই ফটো’ — কার উক্তি?
(A) শোভনের
(B) সোমেনের
(C) নায়েব মশায়ের
(D) লেখকের
Ans: (D) লেখকের।
- ‘এ অশান্তির চেয়ে বনবাস ভালো!’ — বলে বাবা কোথায় বেরিয়ে পড়েন?
(A) কর্মস্থলে
(B) স্টেশনের দিকে
(C) বাসস্ট্যান্ডের দিকে
(D) কাগজের অফিসে
Ans: (D) কাগজের অফিসে।
- নায়েবমশাই নোটের তাড়া এনে দিয়েছিলেন যার হাতে-
(A) গল্পকথক
(B) সমরেশ
(C) সোমেশ
(D) শোভন
Ans: (D) শোভন।
- “শোভন দৌড়ে ঘর থেকে বার হয়ে গেল।” – কারণ –
(A) সে বাবাকে দেখতে পেয়েছিল
(B) তার ভালো লাগছিল না
(C) তাকে নায়েবমশাই বাধা দিচ্ছিল
(D) সে ঘর ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিল।
Ans: (A) সে বাবাকে দেখতে পেয়েছিল ।
- “জমিদার নিজে তাঁকে কাতর অনুরোধ জানিয়েছেন” – কাতর অনুরোধ কি ছিল?
(A) শোভন যেন বাড়ি থেকে চলে যায়
(B) শোভন যেন আর না আসে
(C) শোভন যেন একবার হারানো ছেলে হয়ে জমিদারের স্ত্রী-র কাছে যায়
(D) শোভন যেন টাকা গুলি নেয়
Ans: (A) শোভন যেন বাড়ি থেকে চলে যায়।
- সোমেশের কোথায় জড়ুল ছিল?
(A) ডান হাতে
(B) বাম হাতে
(C) নাকের নীচে
(D) কানের কাছে
Ans: (B) বাম হাতে।
- “বৃদ্ধ কম্পিত হাত তুলে, কম্পিত স্বরে বললেন” – এই বৃদ্ধ হলেন-
(A) খাজাঞ্চিবাবু
(B) পুরোনো সরকারমশাই
(C) নায়েবমশাই (D) শোভনের বাবা
Ans: (D) শোভনের বাবা।
21 “তাঁরা সবাই ভালো আছেন।” – এখানে যাদের কথা বলা হয়েছে, তাঁরা হলেন-
(A) শোভনের বাবা-মা
(B) পুরোনো বন্ধুরা
(C) পুরোনো সরকারমশাই ও নায়েব মশাই
(D) নায়েবমশাই ও খাজাঞ্চিবাবু
Ans: (A) শোভনের বাবা-মা।
- “তোমার কি এতটুকু কর্তব্যবোধও নেই!” – যাকে এ কথা বলা হয়েছে, সে হল-
(A) সোমেশ
(B) শুভম
(C) শোভন
(D) কোনোটাই নয়
Ans: (C) শোভন।
- ‘নিরুদ্দেশ’এর বিজ্ঞাপন দেখে লেখকের —
(A) হাসি পেত
(B) আনন্দ হতো
(C) কান্না পেত
(D) দুঃখ হতো
Ans: (A) হাসি পেত।
- ‘আকাশ ও ম্লান পৃথিবী কেমন মৃতের মতন অসাড় হইয়া আছে’ — আকাশের রূপ কেমন?
(A) মেঘাচ্ছন্ন
(B) রৌদ্রোজ্জ্বল
(C) মেঘে ঢাকা
(D) জ্যোৎস্নালোকিত
Ans: (A) মেঘাচ্ছন্ন।
- ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে যে ঋতুর কথা আছে
(A) শীত
(B) হেমন্ত
(C) বর্ষা
(D) গ্রীষ্ম
Ans: (A) শীত।
- ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে উল্লিখিত খবরের কাগজের বিজ্ঞাপণগুলির বিষয় ছিল
(A) গৃহসজ্জা
(B) অলংকার
(C) নিরুদ্দেশ
(D) পাত্রপাত্রী
Ans: (C) নিরুদ্দেশ।
- ‘নিরুদ্দেশ’ নামাঙ্কিত গল্পটি কোন ঋতুর প্রেক্ষাপটে রচিত?
(A) গ্রীষ্মঋতু
(B) বর্ষাঋতু
(C) শীতঋতু
(D) বসন্তঋতু
Ans: (C) শীতঋতু ঋতুর প্রেক্ষাপটে রচিত।
- শোভন গৃহত্যাগের যত বছর পরে দেশে ফিরেছিল, তা হল-
(A) প্রায় এক বছর
(B) প্রায় তিন বছর
(C) প্রায় দুই বছর
(D) প্রায় চার বছর
Ans: (C) প্রায় দুই বছর।
- শোভন বাড়িতে ফিরে এলে তাকে প্রথম বাধা দিয়েছিলেন যিনি, তিনি হলেন-
(A) খাজাঞ্চিমশাই
(B) দরোয়ান
(C) তার বাবা
(D) নায়েবমশায়
Ans: (D) নায়েবমশায়।
- ‘…সে যেন আশ্বস্ত হলো”- শোভন আশ্বস্ত হয়েছে, কারণ-
(A) সে তার বাবাকে দেখতে পেয়েছে
(B) সে তার পরিচিত বৃদ্ধ খাজাঞ্চিমশাইকে দেখতে পেয়েছে
(C) বাড়ির পুরানো নায়েবমশাইকে দেখতে পেয়েছে
(D) তার মা বাবার শরীর ভালো আছে বলে তাকে জানানো হয়েছে
Ans: (B) সে তার পরিচিত বৃদ্ধ খাজাঞ্চিমশাইকে দেখতে পেয়েছে।
- “ইনি ভেতরে যেতে চাইছেন!” – এ কথা বলেছেন-
(A) খাজাঞ্চিমশাই নায়েবমশাইকে
(B) নায়েবমশাই সরকারমশাইকে
(C) সরকারমশাই খাজাঞ্চিমশাইকে
(D) নায়েবমশাই খাজাঞ্চিমশাইকে
Ans: (D) নায়েবমশাই খাজাঞ্চিমশাইকে।
- “পাশের ঘরে গিয়ে টেবিলের একটা ড্রয়ার খুলে তিনি একটা জিনিস এনে শোভনের হাতে দিলেন।” – জিনিসটা হল-
(A) একগোছা চাবি
(B) একটি চিঠি
(C) শোভনের আঁকা একটি পুরোনো ছবি
(D) শোভনের একটি পুরোনো ফোটো
Ans: (D) শোভনের একটি পুরোনো।
- নিরুদ্দেশ গল্পটির লেখক হলেন —
(A) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
(B) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(C) তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
(D) প্রেমেন্দ্র মিত্র
Ans: (D) প্রেমেন্দ্র মিত্র।
- কাঁচের শার্সির ভেতর দিয়ে বাইরের রাস্তাঘাট কেমন ছিল?
(A) স্বচ্ছ
(B) ঝাপসা
(C) অর্ধস্বচ্ছ
(D) বাস্তব
Ans: (B) ঝাপসা।
- নিরুদ্দেশ গল্পের কোন ঋতুর কথা বলা হয়েছে —
(A) শরৎ
(B) বসন্ত
(C) বর্ষা
(D) শীত
Ans: (D) শীত।
অতি সংক্ষিপ্ত | নিরুদ্দেশ (গল্প) প্রেমেন্দ্র মিত্র – নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | WB Class 9 Bengali Niruddesh SAQ Question and Answer :
- হঠাৎ করে বিজ্ঞাপন বন্ধ হওয়ার কারণ কী ছিল?
Ans: শোভনের মায়ের অসুস্থতার খবর দিয়ে শোভনের নিরুদ্দেশ হবার বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যায়।
- বাড়ি থেকে বাবাকে বেরোতে দেখে শোভনের কী মনে হয়েছিল?
Ans: ঝড়ে ভাঙা গাছ যেমন মুহ্যমান অবস্থায় থাকে, বাড়ি থেকে বাবাকে বেরোতে দেখে শোভনের মনে হয়েছিল তেমনই মনে হয়েছিল।
- “বৃদ্ধ স্থলিতপদে এক পা এগিয়ে আবার থমকে গেলেন।” – কখন এই থমকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল?
Ans: নিরুদ্দেশ গল্পে, নিরুদ্দেশ হবার দুই বছর পর শোভন যখন তার বাড়ি ফিরে যায় সেসময় বাড়ির নায়েব এবং কর্মচারীরা তাকে তার পিতা – মাতার সাথে দেখা করতে বাধা দেয়, এই সময়ে শোভন তার বাবাকে দেখে তাঁর দিকে এগিয়ে গেলে শোভনের বৃদ্ধ পিতা এগিয়ে আবার থমকে যান।
- মনে হয় ছাপার লেখায় সত্যি যেন কান পাতলে কাতর আর্তনাদ শোনা যাবে।” — এই আর্তনাদ কীসের জন্য ছিল?
Ans: নিরুদ্দিষ্ট শোভনের প্রতি তার মায়ের কাতর অনুরোধকে কথক কাতর আর্তনাদের সাথে তুলনা করেছেন। একমাত্র পুত্র শোভনের বাড়ি ফিরে আসার অনুরোধে কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল।
- বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য নিরুদ্দিষ্ট ছেলেটির বাবার কাছে কী কী জানতে চাওয়া হয়েছিল?
Ans: বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য নিরুদ্দিষ্ট ছেলেটির বাবার কাছে প্রথমে নাম–পরিচয় ইত্যাদির বর্ণনা চাওয়া হয়।
- শোভনের পরিচয়জ্ঞাপক কী বিশেষ চিহ্ন ছিল?
Ans: শোভনের পরিচয়জ্ঞাপক বিশেষ চিহ্ন ছিল ডান কানের কাছে বড় একটি জড়ুল।
- “নিরুদ্দেশ’ গল্পে বাবা তার থিয়েটার দেখতে যাওয়া ছেলে ফিরলে কী করবেন বলেছেন?
Ans: নিরুদ্দেশ গল্পে বাবা তার থিয়েটার দেখতে যাওয়া ছেলে ফিরলে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেবার কথা বলেন।
- বাড়ি থেকে বাবাকে বেরোতে দেখে শোভনের কী মনে হয়েছিল?
Ans: ঝড়ে ভাঙা গাছ যেমন মুহ্যমান অবস্থায় থাকে, বাড়ি থেকে বাবাকে বেরোতে দেখে শোভনের মনে হয়েছিল তেমনই মনে হয়েছিল।
- “বৃদ্ধ স্থলিতপদে এক পা এগিয়ে আবার থমকে গেলেন।” – কখন এই থমকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল?
Ans: নিরুদ্দেশ গল্পে, নিরুদ্দেশ হবার দুই বছর পর শোভন যখন তার বাড়ি ফিরে যায় সেসময় বাড়ির নায়েব এবং কর্মচারীরা তাকে তার পিতা – মাতার সাথে দেখা করতে বাধা দেয়, এই সময়ে শোভন তার বাবাকে দেখে তাঁর দিকে এগিয়ে গেলে শোভনের বৃদ্ধ পিতা এগিয়ে আবার থমকে যান।
- মনে হয় ছাপার লেখায় সত্যি যেন কান পাতলে কাতর আর্তনাদ শোনা যাবে।” এই আর্তনাদ কীসের জন্য ছিল?
Ans: নিরুদ্দিষ্ট শোভনের প্রতি তার মায়ের কাতর অনুরোধকে কথক কাতর আর্তনাদের সাথে তুলনা করেছেন। একমাত্র পুত্র শোভনের বাড়ি ফিরে আসার অনুরোধে কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল।
- বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য নিরুদ্দিষ্ট ছেলেটির বাবার কাছে কী কী জানতে চাওয়া হয়েছিল?
Ans: বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য নিরুদ্দিষ্ট ছেলেটির বাবার কাছে প্রথমে নাম – পরিচয় ইত্যাদির বর্ণনা চাওয়া হয়।
- “নিরুদ্দেশ’ গল্পে বাবা তার থিয়েটার দেখতে যাওয়া ছেলে ফিরলে কী করবেন বলেছেন?
Ans: নিরুদ্দেশ গল্পে বাবা তার থিয়েটার দেখতে যাওয়া ছেলে ফিরলে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেবার কথা বলেন।
- “দিনটা ভারী।” – দিনটা ‘বিশ্রী’ কেন?
Ans: ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের কথকের বক্তব্য অনুযায়ী দিনটা ভারি বিশ্রী ছিল কারন, শিতের দিনে বৃষ্টি পড়ছিল।
- “এ অশান্তির চেয়ে বনবাস ভালো।” – একথা বলে বাবা কী করেন?
Ans: ‘নিরুদ্দেশ’ গল্প অনুযায়ী “এ অশান্তির চেয়ে বনবাস ভালো।” – একথা বলে বাবা খবরের কাগজে নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপ্ন দিতে গিয়েছিলেন।
- খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই কী ঘটনা ঘটল?
Ans: খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই বাড়িতে ছেলে ফিরে আসে।
- শোভনের পরিচয়জ্ঞাপক কী বিশেষ চিহ্ন ছিল?
Ans: শোভনের পরিচয়জ্ঞাপক বিশেষ চিহ্ন ছিল ডান কানের কাছে বড় একটি জড়ুল।
- হঠাৎ করে বিজ্ঞাপন বন্ধ হওয়ার কারণ কী ছিল?
Ans: শোভনের মায়ের অসুস্থতার খবর দিয়ে শোভনের নিরুদ্দেশ হবার বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যায়।
- “দিনটা ভারী বিশ্রী।” – দিনটা ‘বিশ্রী’ কেন?
Ans: ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের কথকের বক্তব্য অনুযায়ী দিনটা ভারি বিশ্রী ছিল কারন, শিতের দিনে বৃষ্টি পড়ছিল।
- “এ অশান্তির চেয়ে বনবাস ভালো।” — একথা বলে বাবা কী করেন?
Ans: ‘নিরুদ্দেশ’ গল্প অনুযায়ী “এ অশান্তির চেয়ে বনবাস ভালো।” – একথা বলে বাবা খবরের কাগজে নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপ্ন দিতে গিয়েছিলেন।
- খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই কী ঘটনা ঘটল?
Ans: খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই বাড়িতে ছেলে ফিরে আসে।
সংক্ষিত বা ব্যাখ্যাভিত্তিক | নিরুদ্দেশ (গল্প) প্রেমেন্দ্র মিত্র – নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | WB Class 9 Bengali Niruddesh Question and Answer :
- “যেন কান পাতলে কাতর আর্তনাদ শোনা যাবে।” — মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।
Ans: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে পুরোনো খবরের কাগজে বহুদিন ধরে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপনের কথা রয়েছে। বিজ্ঞাপনটি নিরুদ্দেশের। একজন মা কাতরভারের ছেলেকে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করেছেন। সেখানে অস্পষ্ট আড়ষ্ট ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে মায়ের মনের আকুলতা। একসময়ে সেই আকুলতা মিলিয়ে যায়। এরপর সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায় ভেসে ওঠে পিতার কম্পিত, ধীর এবং শান্ত স্বর—যেখানে মার অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছেলেকে ফিরে আসতে বলা হয়। এইসব অনুরোধ, আবেদনই আর্তনাদের মতো শোনায়।
- “শোভন এই অবস্থাতে না হেসে পারলে না।” — শোভনের হাসির কারণ কী ছিল?
Ans: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। শোভন মা বাবার কাছে যেতে চাইলে নায়েবমশাই তাকে নিবৃত্ত করার জন্য বলেন যে, তাদের কাছে খবর আছে শোভন সাত দিন আগেই মারা গিয়েছে। উদ্ভ্রান্ত শোভন এই কথা শুনেই হেসে ফেলে। সে নিজে সশরীরে উপস্থিত, আর তাকেই কিনা তার মৃত্যুসংবাদ শোনানো হচ্ছে—এই ঘটনা শোভনকে হাসতে বাধ্য করে। কণ্ঠস্বরে বিদ্রুপ মিশিয়ে তাই সে জানতে চায় শোভন কীভাবে মারা গেল।
- “আমরা কি এতদিন রামযাত্রা বার করেছি!” — কে কেন মন্তব্যটি করেছে?
Ans: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে কোনো-একটি ছেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে তার মা খাওয়া-দাওয়া ত্যাগ করেন এবং বিছানা নেন! বিব্রত বাবা খবরের কাগজের অফিসে গিয়ে হাজির হন এবং সেখানে এক কর্মী ভদ্রলোককে জানান যে তিনি তাদের কাগজে একটা খবর বের করতে চান। তাতে সেই নিরীহ চেহারার ভদ্রলোকটি ব্যঙ্গের সুরে বলেন যে তাদের খবরগুলো বুঝি ছেলেটির বাবার পছন্দ হচ্ছে না। একইসঙ্গে প্রশ্নোপ্ত মন্তব্যটিও করেন তিনি।
- “বিজ্ঞাপনের পেছনে অনেক সত্যকার ট্র্যাজিডি থাকে।” — মন্তব্যটি ব্যা করো।
Ans: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে কথক খবরের কাগজের নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গে বলেন যে এই নিরুদ্দিষ্টরা অনেক সময়ই রাগের মাথায় বা অভিমান করে বাড়ি ছাড়ে, তারপরে কিছুদিন বাদে রাগ আর অভিমান কমলে বাড়ি ফিরেও আসে। কিন্তু বন্ধু সোমেশের মনে হয় বিষয়টি এত সহজনয়। বহু নিরুদ্দেশের ঘটনার পিছনেই থাকে জীবন থেকে চিরকালের মতো হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা। সেসব ক্ষেত্রে হয় ফিরে আসা সম্ভব হয় না, বা ফিরে আসার পথ বন্ধ হয়ে যায়।
বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী | নিরুদ্দেশ (গল্প) প্রেমেন্দ্র মিত্র – নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | WB Class 9 Bengali Niruddesh Question and Answer :
1. ‘নিরুদ্দেশ’ গল্প অবলম্বনে শোভন চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
Ans: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের প্রধান চরিত্র শোভন ছিল এক প্রাচীন জমিদার বংশের একমাত্র উত্তরাধিকারী এবং সে জমিদারি ক্ষয়িষ্ণু নয়। অনেক দুর্দিনের ভিতরেও তা নিজেকে রক্ষা করতে সমর্থ হয়েছে। শোভন ছিল ষোলো-সতেরো বছর বয়সের একটি ছেলে, দোহারা গড়ন। নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনে তার পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, ডান কানের কাছে একটি জভুল আছে।
নিরুদ্দেশের কারণ: সোমেশের কথা থেকে জানা যায় যে, কোনো অভিমান নয়, শোভন বাড়ি ছেড়েছিল সংসারের প্রতি তার আকর্ষণ না থাকার কারণে। পৃথিবীতে এক ধরনের মানুষ আছে যারা কোনো কিছুতেই বাঁধা পড়ে না শোভন ছিল সেরকম মানুষ।
শোভনের ট্র্যাজেডি: দুবছর পরে বাড়ি ফিরে এসে শোভন এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। বাড়ির পুরোনো নায়েবমশাই কিংবা খাজাঞিমশাই কেউই তাকে চিনতে পারেননি। তাকে বারবাড়িতে থাকতে বলা হয়। শোভনকে শুনতে হয় তার নিজেরই মৃত্যুসংবাদ। এমনকি বৃদ্ধ বাবাও তাকে চিনতে পারেন না। আর সব থেকে ট্র্যাজিক মুহূর্তটি আসে যখন শোভনের হাতে কিছু টাকা দিয়ে নায়েবমশাই বলেন যে তাকে মা-এর সামনে শোভনের ভূমিকায় অভিনয় করতে হবে। আসল পরিচয়কে অস্বীকার করে তাকে একটা মিথ্যা কাহিনির নায়ক করে তোলা হয়।
শোভন এবং সোমেশ: গল্পের সমাপ্তি এই ইঙ্গিত দিয়ে যায় যে, সোমেশই শোভন। কারণ, সোমেশেরও কানের কাছে জডুল ছিল, আর ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে সাোমেশ জানিয়েছে—”সেই জন্যেই গল্প বানানো সহজ হলো।”
2. “তার চলার গতিতে পর্যন্ত যেন ভয়ংকর দুর্ঘটনার পরিচয় আছে” — কার কথা বলা হয়েছে? বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কি?
Ans: প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা ‘নিরুদ্দেশ’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। এখানে শোভনের বাবার কথা বলা হয়েছে।
শোভনের নিরুদ্দেশ সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন গুলো যখন খবরের কাগজে আর প্রকাশিত হতো না, তখন শোভনের বাড়ি ফেরার কথা মনে হয়। বাড়ি ফিরে গেলে তার চেহারার পরিবর্তনে কেউই তাকে চিনতে পারেনা। প্রাণপণে শোভন যখন তাদের নায়েব মশাইকে নিজের পরিচয় বোঝাতে চেষ্টা করে চলেছে, সেই মুহূর্তে বাড়ি থেকে শোভন তার বাবাকে বের হতে দেখে। বাবার চেহারা দেখে শোভন অবাক হয়ে যায়। দুঃখ, শোকে জর্জরিত হতে হতে মানুষটির চেহারা এতটাই ভেঙে পড়েছে যে একমাত্র ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছের সঙ্গেই তার মিল সম্ভব। তার হাঁটা চলার গতিতেও ভয়ংকর দুর্ঘটনার প্রকাশ স্পষ্ট।
